ভাঙনের কবলে হাতিয়া, রক্ষার আকুতি বাসিন্দাদের

সিরাজুজ্জামান
সিরাজুজ্জামান সিরাজুজ্জামান , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হাতিয়া দ্বীপ ঘুরে
প্রকাশিত: ০৬:৩৩ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২০

হাতিয়া। মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে নোয়াখালীর এ দ্বীপ উপজেলার অবস্থান। মেঘনার সর্বনাশা ঢেউয়ে বিলীন হয়ে চলেছে হাতিয়ার হরনী ও চানন্দী ইউনিয়নের বয়ারচর, নলেরচর এবং ক্যারিংচরের বিস্তীর্ণ এলাকা। শত শত একর ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, রাস্তাঘাট ও হাটবাজার- ভাঙছে তো ভাঙছেই।

ফলে হাজার হাজার মানুষ হয়ে পড়ছে গৃহহীন। দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। কাটাতে হচ্ছে মানবেতর জীবন। বারবার নদীভাঙনে বিপর্যস্ত সেখানকার বাসিন্দারা অতি দ্রুত ব্লকবাঁধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে হাতিয়াকে রক্ষা করার দাবি জানাচ্ছেন সরকারের প্রতি।

সম্প্রতি হাতিয়ার কিছু চর ঘুরে ভাঙন এবং এর কারণে মানুষের দুর্দশা দেখেছে জাগো নিউজ। প্রতিবেদককে কাছে পেয়ে অসহায় মানুষ তাদের বসতভিটে বাঁচানোর আকুতি জানান সরকারের প্রতি। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, বয়ারচর, ক্যারিংচরে ২০০০ সালে ভাঙনের ফলে অনেকে নলেরচরে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু এই চরও এখন ভাঙনের কবলে। গত তিন বছরে এখানকার প্রায় ১২ কিলোমিটারের ওপর ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

jagonews24

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১২০০ পরিবারকে নলেরচরে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। তবে অনেক পরিবার এখনো বেড়িবাঁধের ওপর মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেক বড় বড় স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অচিরে ভাঙন ঠেকাতে টেকসই পদক্ষেপ নেয়া না হলে দ্বীপের বাসিন্দাদের আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে।

নলেরচরের প্রশাসক আবদুর রহিম জাগো নিউজকে বলেন, এখানে জনগণের সবচেয়ে বড় দুঃখ হচ্ছে নদীভাঙন। বিগত এক বছরে ৫-৭ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে অনেক লোক ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

আবদুর রহিম বলেন, এই এলাকার জনগণের সবচেয়ে বড় দাবি হচ্ছে ব্লকবাঁধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ। ব্লক ও বেড়িবাঁধ নির্মিত হলে এ এলাকার সমস্যার সমাধান হবে। আমি সরকারের কাছে ব্লকবাঁধ নির্মাণের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, নলেরচরে সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার অধিবাসী রয়েছেন। এছাড়া বয়ারচরে রয়েছেন ৮০ হাজার অধিবাসী। তিনটি চর মিলে দেড় লাখের বেশি অধিবাসী রয়েছে। যে ১৭ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন হচ্ছে, সেখানে যদি ব্লকবাঁধ নির্মাণ হয় তাহলে এখানে দেড়লাখ জনগণ উপকৃত হবে।

jagonews24

হাতিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সেক্রেটারি মো. ইসমাইল জাগো নিউজকে বলেন, জিও ব্যাগ, ব্লক দিয়ে যেন আমাদের ভাঙন থেকে রক্ষা করা হয়। এটাই আমাদের আবেদন।

চতলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা দলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, চর ডেভেলপমেন্ট এবং সেটেলমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে এ চরের ভূমি মাত্র ১৫ বছর আগে বস্তোবস্ত দেয়া হয়। এরপর অনেকগুলো উন্নয়ন কাজ হয়েছে। কিন্তু ইদানীং নদীভাঙন ব্যাপক হারে শুরু হওয়ায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করব, যেন দ্রুত বাঁধ দিয়ে আমাদের রক্ষা করেন। আমাদের অন্যান্য কাজের দরকার নেই। এ সংক্রান্ত ফাইলটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। আমরা চাই অতি দ্রুত এটি একনেকে অনুমোদন দিয়ে আমাদের অসহার চরের নিরীহ মানুষদের রক্ষা করবেন।

এইচএস/এইচএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]