ট্রেনে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই, ‘ভুল তথ্য’ না ছড়াতে অনুরোধ রেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ পিএম, ১৮ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ট্রেন/ফাইল ছবি

রেলপথে ট্রেনের টিকিট পরিদর্শকের (টিটিই) বা টিকিট কাউন্টারে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ‘ভুল তথ্য’ বা ‘নেতিবাচকভাবে প্রচার’ থেকে বিরত থাকতেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত হারে টিটিই বা কাউন্টার থেকে ভাড়া আদায় করা হয়। এক্ষেত্রে বিনা রসিদে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো দৃষ্টান্তও নেই বলে দাবি মন্ত্রণালয়ের।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিটিই’র মাধ্যমে ও কাউন্টার থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে উল্লেখ করে বুধবার (১৮ মার্চ) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো এক বার্তায় এসব কথা জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, বিনা টিকিটে ভ্রমণকারী কোনো যাত্রী টিটিইর হাতে ধরা পড়লে, বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী ট্রেনের যাত্রা আরম্ভের স্টেশন থেকে গন্তব্য স্টেশনের মূল ভাড়া এবং ভাড়ার সমপরিমাণ জরিমানা আদায়ের বিধান রয়েছে।

সম্প্রতি জনৈক যাত্রী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেট থেকে বিনা টিকিটে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে এসে টিটিইর কাছে ধরা পড়েন। সিলেট-ঢাকা ট্রেনের নিয়মিত ভাড়া ৪১০ টাকা। সে হিসাবে, ভাড়া ও জরিমানা বাবদ ওই যাত্রীর কাছ থেকে রেলওয়ের আইন অনুযায়ী ৮২০ টাকা আদায় করা হয়।

বার্তায় বলা হয়, শর্ট ডিসটেন্সের টিকিট নিয়ে কোনো যাত্রী যেন অধিক দূরত্বে ভ্রমণ করতে না পারেন, এজন্য ঈদের সময় শর্ট ডিসটেন্সের টিকিট বন্ধ রাখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেওয়া আছে।

সেখানে আরও বলা হয়, সম্প্রতি একজন যাত্রীকে নরসিংদীর টিকিট না থাকায় আখাউড়া স্টেশনের শোভন চেয়ারের টিকিট দেওয়া হয়। ওই টিকিটের ভাড়া ১৯৫ টাকা। নির্ধারিত ভাড়া আদায় সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে আখাউড়ার টিকিট দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো রেলকর্মীর অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি সরকারি গণপরিবহন উল্লেখ করে বার্তায় বলা হয়, ভাড়া আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায়ের সুযোগ কোনো রেলকর্মীর নেই। যদি কোনো রেলকর্মীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু অজ্ঞতাপ্রসূত এ ধরনের ভুল তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচকভাবে প্রচার করলে রেলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

যাত্রী সাধারণসহ সবাইকে এ ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এনএস/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।