গভীর নিম্নচাপে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ছন্দপতন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২০

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে রাজধানী ঢাকাতেও বিরুপ প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত থেকে থেমে থেকে বৃষ্টিপাতের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ছন্দপতন ঘটেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ছুটির দিনে সকাল ৯টার আগ পর্যন্ত নগরীর পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকার ছোট বড় রাস্তাঘাট ছিল প্রায় ফাঁকা। অন্যান্য দিনে সাপ্তাহিক বাজারের জন্য অনেকেই কাকডাকা ভোরে বাজারে ছুটলেও বৃষ্টি এবং বাতাসের কারণে অনেকেই বেশ বেলা করেই ঘুম থেকে উঠেছেন। বাজারেও তুলনামূলকভাবে ক্রেতার ভিড় ও বেচাকেনা কম ছিল। রাস্তাঘাটে গণপরিবহনেও যাত্রী সংখ্যা ছিল খুবই অল্প। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হয়নি।

তবে সকাল ১০টার পর থেকে বৃষ্টি কমলে জীবন ও জীবিকার সন্ধানে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ ছাতা কিম্বা রেইনকোট নিয়ে গন্তব্যে ছুটতে শুরু করেন। বিশেষ করে বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেটের মালিক ও কর্মচারীদের দোকান খুলতে ছুটতে দেখা যায়।

Dhaka-3

মহামারি করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে ব্যবসা বাণিজ্য আগের মতো নেই বললেই চলে। শুক্রবার ছুটির দিনেও এমনিতেই ক্রেতার ভিড় তুলনামূলক বেশি থাকে। এছাড়া দুর্গাপূজার উৎসবকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। এ কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবাহওয়া সত্ত্বেও মার্কেটের দোকানিরা দোকান খুলে বসেন।

সরেজমিনে নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনিচক, হকার্স মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও ধানমন্ডি এলাকার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে- টিপ টিপ বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতারা মার্কেটে ঢুঁ মারছেন।

নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, করোনার কারণে ব্যবসা বলতে গেলে লাটে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্গা উৎসবের কারণে গত কয়েকদিন বেচাকেনা ভালো হচ্ছিল। শুক্রবার খুব ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ক্রেতা আশানুরূপ হচ্ছে না। বিকেলের দিকে বেচাকেনা ভালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Dhaka-2

বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন এলিফ্যান্ট রোড এলাকার ফুটপাতের শিশু পোশাক বিক্রেতা আফজাল। দুপুর ১২টায় ফুটপাতে পর্দা টানিয়ে মালামাল সাজাতে দেখা যায়। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে সকালে দোকান খুলিনি। এখন বৃষ্টি কম হওয়ায় দোকান খুলছি। জোরে বৃষ্টি হলে পণ্য সামগ্রী ভিজে যায়। এতে বিক্রি করে যত লাভ হবে তার চেয়ে লোকসান বেশি হবে।

নিউমার্কেটের সামনে ভ্যানগাড়ি থামিয়ে তেলের গ্যালন নামাচ্ছিলেন ভ্যানচালক রহিম মিয়া। বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়েছেন। এ প্রতিবেদককে রহিম মিয়া বলেন, ঝড়-বৃষ্টি যাই হউক, কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হবে। তাই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বেরিয়ে পড়েছেন।

Dhaka-2

এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

এমইউ/এএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]