ভাসানচরে ২২ এনজিওর কাজ শুরু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ভাসানচর থেকে ফিরে
প্রকাশিত: ০৮:০৯ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে এনজিওগুলো বিরোধিতা করে আসছিল বলে এতদিন অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি ২২টি এনজিও নোয়াখালীর হাতিয়ার এই দ্বীপে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কাজ শুরু করেছে।

একাধিকবার এসব এনজিওর প্রতিনিধিরা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত আবাসন পরিদর্শনে এসে সরকারের সুপরিকল্পিত আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, উন্নতমানের একটি আবাসিক এলাকায় যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার তার সবই এখানে রয়েছে।

সম্প্রতি দ্বীপটি ঘুরে দেখা গেছে, পালস বাংলাদেশ সোসাইটি, কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ, ফ্রেন্ডশিপ, এসএডব্লিউবি, শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল: বাংলাদেশ, গ্লোবাল উন্নয়ন সংস্থা, আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার, সনি ইন্টারন্যাশনাল, আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন, হেলথ দ্য নিডি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, জনসভা কেন্দ্র, কারিতাস বাংলাদেশ, সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস), সোশ্যাল এইড, সিডিডি, মুক্তি- কক্সবাজার, ভলান্টারি অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট, আর টি এম ইন্টারন্যাশনাল, মাল্টি সার্ভ ইন্টারন্যাশনাল, আল্লামা ফয়জুল্লাহ ফাউন্ডেশন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর অল এসব এনজিওগুলো সেখানে কাজ শুরু করেছে।

Vasanchar3.jpg

আর টি এম ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার জাগো নিউজকে বলেন, ‘উন্নতমানের একটি আবাসিক এলাকায় যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে, তার সবই এখানে রয়েছে। কক্সবাজারের চেয়ে শতগুণ ভালো ভাসানচর। ফলে না দেখেই কারও বিরোধিতা করা উচিত নয়।’

সোশ্যাল এইডের কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন, ‘ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য যেসব সুবিধা রয়েছে এসবের অনেক সুবিধা আমার দেশের মানুষ পায় না। তাই আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি।’

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার জনকে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ভাসানচরে নেয়া হবে। বিভিন্ন ধাপে লাখখানেক রোহিঙ্গাকে এ দ্বীপে স্থানান্তরিত করা হবে। এজন্য এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছে সাগর কোলে ভেসে থাকা নীরব এ দ্বীপ।

Vasanchar3.jpg

জানা গেছে, ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সরকার ও এনজিওগুলোর পক্ষ থেকে ভাসানচরে ৬৬ টন খাদ্যসামগ্রী নেয়া হয়েছে। প্রথমে স্থানান্তরের উদ্দেশে রোহিঙ্গাদের আনা হবে চট্টগ্রামে। সেখান থেকে তাদের নেয়া হবে ভাসানচরে। এ জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে নৌবাহিনীর ১৪টি জাহাজ। প্রথম দুই মাস তাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হবে। এরপর নিজ নিজ বাসস্থানেই তারা রান্না করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন হাজার ১০০ কোটি টাকায় নির্মিত রোহিঙ্গাদের জন্য এই অস্থায়ী আবাসস্থল এখন কর্মমুখর। দ্বীপটি বাসস্থানের উপযোগী করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বনায়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। রোহিঙ্গাদের জন্য আধুনিক বাসস্থান ছাড়াও বেসামরিক প্রশাসনের প্রশাসনিক ও আবাসিক ভবন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভবন, মসজিদ, স্কুল হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ভবন, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও খেলার মাঠ নির্মাণ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সেখানে মহিষ, ভেড়া, হাঁস, কবুতর পালন করা হচ্ছে। আবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি। পরীক্ষামূলকভাবে ধান চাষও করা হচ্ছে এখানে।

এইচএস/এমআরআর/এফআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]