ভারতের পাশাপাশি ভুটানসহ আশপাশের দেশেও নৌপথে পণ্য পাঠানোর আশাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২১

নৌপথ ব্যবহার করে কেবল ভারত নয়, ভুটানসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পণ্য পাঠানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নৌ-প্রটোকল চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে নৌপথে খাদ্যপণ্য পরিবহনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর শেষ দিনে বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে জাহাজ ভারতে আমরা পাঠাতে পেরেছি। কিছুক্ষণ আগেই এর উদ্বোধন হয়েছে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌপথ যে সাশ্রয়ী পরিবহন মাধ্যম হতে পারে সেটা আমরা ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করতে পেরেছি এবং ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসেছে। এজন্য প্রাণ-আরএফএল গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকে যেসব পণ্য যাচ্ছে সেগুলোকে পাইলট বলা যায়। সড়কপথে পরিবহন খরচে যে সীমাবদ্ধ ছিল নৌপথে সে সীমাবদ্ধতা অনেক কম। সেখানে অনেক পণ্য একসঙ্গে পরিবহন করা যায়, সুবিধাও বেশি। সেই সুবিধা ব্যবসায়ীরা পাবে। পণ্যের দাম এক্ষেত্রে কমে যাবে এবং এটা নিরাপদও আছে। আমি মনে করি আজকে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো।

তিনি বলেন, আমরা ভবিষ্যতে নৌপথ ব্যবহার করে শুধু কলকাতা নয় আসাম, ভুটানসহ আশেপাশের বিভিন্ন দেশগুলোতে পণ্য পাঠাতে চাই। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিধি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ১৪৫টি দেশে পণ্য পাঠিয়ে থাকে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল আয়ের দেশে গেছি। আমরা আরও ভালো ভালো পণ্য উৎপাদন করব এবং সমগ্র বিশ্বে পাঠাবো। সেক্ষেত্রে নৌপথ সবচেয়ে নিরাপদ পরিবহন মাধ্যম।jagonews24খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। প্রাণ-আরএফএল-এর মতো শত শত প্রাণ-আরএফএল দেশে গড়ে উঠবে এবং বাংলাদেশ অবশ্যই অর্থনীতিতে এগিয়ে যাবে। আমরা উন্নত বাংলাদেশ অবশ্যই হবো।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, এখানে উপস্থিত হয়েছি একাত্মতা প্রকাশ করার জন্য। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হচ্ছি। প্রাণ গ্রুপ প্রায় ৫০০টি প্রোডাক্ট ১৪৫টি দেশে রফতানি করে। আমাদের যে পাঁচ বিলিয়ন এক্সপোর্ট লস হবে বলে বলা হচ্ছে। আমি অনুরোধ করব প্রাণ গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান আহসান সাহেব আরও দুই বিলিয়ন আমাদের দিতে পারেন। প্রথমবারের মতো নৌপথে রফতানি করবে, ভারত প্রতিবেশী দেশ; প্রতিবেশীদের সঙ্গে ব্যবসা সহজ। ভারতের সঙ্গে ভাষাগত, খাদ্যাভ্যাসের মিল রয়েছে, সে সুযোগ আমরা নেবো।

প্রাণ গ্রুপকে পাইওনিয়ার ও লার্জেস্ট গ্রুপ উল্লেখ করে বাণিজ্য সচিব বলেন, প্রাণ গ্রুপকে একটি অনুরোধ করব; পেঁয়াজ নিয়ে প্রতিবছর একটা সমস্যা হয়, এটা সংরক্ষণ করা যায় না। সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের একটা সমস্যা যায়। সেজন্য পাউডার পেঁয়াজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। প্রাণ গ্রুপ ইতোমধ্যে সেটি করছে, তারা স্যাম্পলও দেখিয়েছে। তাদের কাছে অনুরোধ; পাউডার পেঁয়াজ ব্যবহারের বিষয়টি প্রচার করুন। তাহলে পেঁয়াজ নিয়ে যে সমস্যা সেটি থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, আশা করি এ ব্যাপারে প্রাণ আমাদের সহায়তা করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। আমাদের স্থানীয় বাজারেও দাম বেড়েছে। প্রাণ গ্রুপ-এর ভোজ্যতেলের কোনো প্ল্যান্ট নেই। আমি অনুরোধ করব, বিষয়টিকে মাথায় রেখে ভোজ্যতেলের প্ল্যান্ট যেন তারা করে।

নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ভারতের উদ্দেশ্যে পণ্যবাহী জাহাজ প্রাণ-এর লিচি ড্রিংকস নিয়ে যাবে। এর ফলে সড়কের ঝামেলা কমবে। আশা করব প্রাণ-আরএফএল আরও বেশি বেশি নৌপথে পণ্য পরিবহন করবে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও নৌপথে পণ্য পরিবহনে এগিয়ে আসবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন নৌপথটাকে আরও বেশি করে ব্যবহার করার জন্য। আশা করি বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ও এগিয়ে যাবে। প্রাণ-আরএফএল-এর মতো প্রতিষ্ঠানও বহুদূর এগিয়ে যাবে।

এ সময় নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আশরাফ খান বলেন, আমরা ভারতে নৌপথে রফতানিতে সমুদ্রপথ ব্যবহার করি না। সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করি। সুন্দরবন আমাদের সম্পদ।

এতে করে যাতে সুন্দরনের কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। সেইসঙ্গে প্রাণ-এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি।jagonews24প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী অর্থাৎ ভারতের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত সব জায়গায় কিন্তু আমরা প্রাণ-আরএফএল-এর পণ্য পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি, নৌপরিবহনের মাধ্যমে আমরা আরও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আমাদের পণ্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো। আমরা ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে চাই, নৌপথের মাধ্যমে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আজকে আমাদের যে পণ্য যাচ্ছে সেটি যদি সড়কপথে যেত তাহলে ৪০ কার্টন লাগতো। অথচ যে জাহাজে যাচ্ছে সেখানে এখনো সব পণ্য ওঠানোর পরও কিছুটা খালি আছে। আমাদের ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিলে আগামী দিনে স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, আমাদের ব্যাবসায়িক সমাজ ও সরকার একসঙ্গে কাজ করব। তাহলেই রূপকল্প-২০৪১ আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব।

অনুষ্ঠানে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) এনামুল হক সাগর, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কমল কুমার ঘোষ প্রমুখ এ সময় বক্তব্য দেন।

আইএইচআর/এমআরআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]