জমে উঠেছে ফুটপাতের ঈদবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ১৩ মে ২০২১

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়ি গেলেও এবার রাজধানীতে ঈদ উদযাপন করবেন উল্লেখ সংখ্যক মানুষ। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় এবং করোনা সংক্রমণ এড়াতে অনেক মানুষই এবার গ্রামের বাড়ি যাননি। সে কারণে ঈদের আগের দিনও কেনাকাটায় মানুষের ভিড় দেখা গেছে। ব্যতিক্রম ছিল না রাজধানীর ফুটপাতের অস্থায়ী পোশাকের দোকানগুলোতেও।

রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও নামকরা মার্কেটের পাশাপাশি জমে উঠেছে ফুটপাতের ঈদবাজারও। নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ ঈদের কেনাকাটা সারছেন এখান থেকে। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেশিরভাগই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

ফুটপাতের এসব দোকানে পছন্দ হলে কেউবা গায়ে দিয়ে দেখে নিচ্ছেন, আবার কারো কোমরের মাপ নিচ্ছেন দোকানি। আবার যাদের গায়ে হচ্ছে না কিন্তু পছন্দ হচ্ছে-এমন অবস্থায় তারা প্যান্ট, গেঞ্জি কেনার পর ফিটিং করার জন্য পাশেই খোলা স্থানে দরজির কাছে ছুটছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) রাজধানী ব্যস্ততম নগরীর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এবং বঙ্গবাজারে ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। ছেলে-বুরো -শিশুসহ সব বয়সী ক্রেতাই ব্যস্ত পোশাক দেখে পছন্দ করা এবং কেনাকাটায়।

jagonews24

গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ফুটপাতে শার্ট ও প্যান্টের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ী শাহ আলম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনা শুরুর পর গত বছর রোজার ঈদের আগে থেকেই বন্ধ ছিল। কিন্তু এবার বিক্রি ভালোই হচ্ছে। রোজায় তো বেলা ১১টার দিকে দোকান খুলে বসি আর, বিক্রি শুরু হয় মূলত বিকেলের দিকে। আমাদের বেচাবিক্রি মূলত সন্ধার পরেই বেশি হয়। এখন লকডাউনে সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও পুলিশের কড়াকড়ি নেই তেমন একটা। তাই আমরা রিলাক্সেই দোকানদারি করতে পারছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের আগের দিন দোকান খোলার পরও বেশ ক্রেতা সমাগম রয়েছে। তবে, মার্কেটের ভেতরের তুলনায় ফুটপাতে বিক্রি একটু বেশি।’

জানা গেছে, ফুটপাতে গতকাল রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের চাপ ছিল। আজও চাপ রয়েছে, তবে গতকালের তুলনায় কম।

এদিকে নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে মোটামুটি ভালো বেচা-বিক্রি চলছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শাহিন নামের এক দোকাদর বলেন, ‘ঈদের আগের দিন যারা আসছেন তারা মূলত কেনাকাটা করতেই আসছেন। ফলে শেষ মুহূর্তে বিক্রিতেও কমতি নেই। যদিও গতকালের তুলনায় আজ বিক্রি একটু কম। গত বছর তো দোকানে বসতেই পারিনি। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। কিন্তু সে তুলনায় এবার সবাই সচেতন এবং আতঙ্ক কম, তাই ক্রেতা একটু বেড়েছে।’

তারা বলছেন, যারা ঢাকা ছেড়েছেন তাদের বেশিরভাগই গতকাল চলে গেছেন। কারণ অনেকেই মনে করেছেন আজ ঈদ হয়ে যাবে। তাই দূর-দূরান্তের মানুষ কেনাকাটা শেষ করেই বাড়ি ফিরেছেন। সেই হিসেবে আজ মার্কেটে তুলনামূলক মানুষ কম।

এরপরও আশপাশের ফুটপাত ও রাস্তার ওপরে শতশত হকার তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। কিন্তু, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের অনেকের দাবি, করোনার মধ্যে তাদের বিক্রি অনেকাংশে কমে গেছে। ভিড় থাকলেও মানুষের হাতে টাকা না থাকায় বেচাকেনা কম হচ্ছে।

jagonews24

শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবারের ঈদের বাজারে বহু মানুষ শুধু পণ্য দেখেই চলে যাচ্ছেণ। বেচা-কেনা তো হয় না। অন্যসময় ঈদের আগে কথা বলার সময় পাওয়া যেত না। এক কথায়, এক দামে বিক্রি করতাম।’

রাজধানীর বড় বড় শপিংমল ও বিপণিবিতান সংলগ্ন ফুটপাতেও বসেছেন ব্যবসায়ীরা। অ্যালিফ্যান্ট রোডের আলপনা প্লাজার পাশে ফুটপাত থেকে দুই জোড়া জুতা কিনেছেন ইয়াকুব আলী। তিনি বলেন, ‘সস্তা মনে হলো, তাই বাচ্চাদের জন্য দুই জোড়া জুতা কিনলাম। এবার ঈদে তেমন কিছু কেনার পরিকল্পনা ছিল না। কমে পেলাম বলে কেনা হলো।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকায় ঈদে গ্রামে ফিরছে না মানুষ। এজন্য তারা কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। মানুষ গ্রামে ফিরলে ফুটপাতে বিক্রি আরও ভালো হতো।’

তবে করোনার মধ্যেও অনেকেই আসছেন প্রিয়জনের জন্য কেনাকাটা করতে। এবারের ঈদে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের বেচা-বিক্রি তুলনামূলক ভালো, বলছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল ও আজ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

jagonews24

ঈদ কেনাকাটায় বিত্তবানদের প্রয়োজন না হলেও, নিম্ন এবং নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য এক রকম আশীর্বাদ রাজধানীর ফুটপাতের বাজার। তবে বিত্তবানদেরও ফুটপাত থেকে গ্রামের মানুষ এবং আত্মীয়স্বজনের জন্য কাপড়চোপড় কিনতে দেখা যায়। সবমিলিয়ে সাধ্যের মধ্যে সেরা জিনিসটা খোঁজার জায়গা ফুটপাতের দোকানগুলো।

রাজধানীজুড়ে বহু ফুটপাতে চলছে ঈদের কেনাবেচা। এর মধ্যে রয়েছে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর, দক্ষিণ, পশ্চিম গেটের সামনে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হকার্স সমিতি মার্কেট, গুলিস্তান মোড়ের চারপাশের ফুটপাত, নয়াপল্টনের ভিআইপি সড়কের ফুটপাত, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আশপাশে গোলাপ শাহ মাজার সংলগ্ন ফুটপাত, বঙ্গবাজার, ফকিরাপুল এলাকা।

পল্টন ছাড়াও, দৈনিক বাংলা মোড়, মতিঝিল জনতা ব্যাংকের সামনে, মতিঝিল শাপলা চত্বরের চারদিকের ফুটপাতে চলছে ঈদের কেনাকাটা।

এদিকে নীলক্ষেত, নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনি চকের ফুটপাতেও জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা। ফার্মগেট, কাওরানবাজার ও খিলক্ষেত, উত্তরার অভিজাত মার্কেটের সামনের ফুটপাতে শার্ট-প্যান্ট ও বাচ্চাদের পোশাক কিনতে দেখা গেছে অনেককেই।

এফএইচ/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]