পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৮ পিএম, ০৯ জুলাই ২০২১

আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের এক মাসের মূল মজুরির সমান ঈদ বোনাস ও জুন মাসের মজুরিসহ বকেয়া পাওনাদি পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট।

পাশাপাশি তিন মাসের অধিক বকেয়া মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত সিনহা গ্রুপ এবং স্টাইল ক্রাফটের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (৯ জুলাই) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ যৌথ বিবৃতিতে বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। পোশাক শ্রমিকদের এই লকডাউনের বাইরে রাখা হয়েছে। অথচ তাদের কর্মস্থলে যাওয়া-আসার জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়নি। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মাইলের পর মাইল পথ পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে পৌঁছাতে দেরি হলে তারা লাঞ্ছনা-চাকরিচ্যুতির শিকার হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য প্রায় দেড়গুণ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য ব্যয় কমাতে বাধ্য হওয়া এই শ্রমিকদের দ্বিগুণ কাজের চাপ বহন করতে হচ্ছে। ফলে জীবিকার জন্য পোশাক শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও মালিক বা সরকার শ্রমিকদের এই ত্যাগের কোন স্বীকৃতি দিচ্ছে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনের চাকা সচল রাখা শ্রমিকদের মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর ভূমিকা প্রশ্নবোধক। ৩-৪ মাসের বকেয়া মজুরির জন্য রাস্তায় নামা ক্ষুধার্ত শ্রমিককে লাঠিপেটা করা হচ্ছে। অথচ শ্রমিকের মজুরি আত্মসাৎ প্রচেষ্টাকারী মালিককে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। সরকারের প্রশ্রয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের অনেকেই চূড়ান্ত দায়িত্বহীন আচরণ করছে।

নেতৃবৃন্দ সিনহা গ্রুপ ও স্টাইল ক্রাফট পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সকল বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধের আহবান জানিয়ে বলেন, লকডাউনের মধ্যে কারখানা খোলা এবং পুর্ণদ্যামে উৎপাদন চালু আছে। প্রতি মাসের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের মজুরি পরিশোধের বিধান থাকলেও লকডাউনের অজুহাতে অনেক কারখানায় এখনো শ্রমিকের চলতি মজুরি পরিশোধ করা হয়নি। আর ঈদের ছুটির মাত্র ১০ দিন বাকি থাকলেও প্রায় কোনো কারখানায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি।

লকডাউনের অজুহাতে শ্রমিকদের বেতন-উৎসব ভাতা পরিশোধে কোনো ধরনের গড়িমসি সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের কমপক্ষে এক মাসের মজুরির সমান ঈদ বোনাস, জুন মাসের বেতন এবং ওভারটাইমের মজুরিসহ সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

এসএম/জেডএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]