কেন মামলা করবেন মুসা বিন শমসের?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৬ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০২১

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভুয়া অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দেওয়া প্রতারক আব্দুল কাদের চৌধুরী। তিনি দশম শ্রেণি পাস। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার সঙ্গে ‘ধনকুবের’ মুসা বিন শমসেরের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এবং কাদের তার আইন উপদেষ্টা ছিলেন বলে জানতে পারে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবি কার্যালয়ের গেটে মুসা বিন শমসের জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভুয়া অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দেওয়া আব্দুল কাদের একজন মিথ্যাবাদি। আমিও প্রতারণার শিকার হয়েছি। এ ভুয়া অতিরিক্ত সচিবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো, তার বিরুদ্ধে মামলা করবো।

কিন্তু মুসা বিন শমসের আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে কবে এবং কোন থানায় মামলা করবেন সে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

তবে ডিবি পুলিশ বলছে, ভুয়া অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাদেরের সঙ্গে সম্পর্কের দায় মুসা বিন শমসের এড়াতে পারবেন না। কারণ উনার সঙ্গে আব্দুল কাদের মাঝির যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক, তা দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে আব্দুল কাদের মাঝি ঠকিয়েছেন। কাদের মাঝি বলেছেন, তার সঙ্গে আইজিপিসহ বড় বড় মানুষের সম্পর্ক আছে। কিন্তু উনার তো (মুসা বিন শমসের) জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল। কিন্তু উনি জিজ্ঞেস করেননি। আব্দুল কাদের মাঝির সঙ্গে উনার একটা যোগসূত্র রয়েছে।

ডিবি জানায়, আব্দুল কাদেরের সঙ্গে মুসা বিন শমসেরের নানা ব্যবসায়িক সম্পর্কের চুক্তিপত্রসহ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এমনকি মুসা বিন শমসেরের একটি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করতেন তিনি। কাদেরের প্রতিষ্ঠানে শমসেরের একাধিক ছবি টানানো রয়েছে। তিনি নিজেকে পরিচয় দিতেন শমসেরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাডভাইজার হিসেবে। প্রতারক আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে মুসা বিন শমসের ও তার স্ত্রীর সঙ্গে করা কিছু চুক্তিপত্র উদ্ধার করা হয়।

মুসা বিন শমসের বলেন, একজন ফ্রড (প্রতারক) লোক অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে ভুয়া কার্ড ছাপিয়ে আমার অফিসে গিয়েছিল। আমার সঙ্গে বিভিন্ন সময় ছবি তুলেছিল এবং সে মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে বসে ঊর্ধ্বতন লোকদের সঙ্গে কথা বলতো। তাদের মধ্যে আইজিপি, আর্মির জেলারেলসহ ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলতো। আমার বিশ্বাস ছিল যে, সে (আব্দুল কাদের) অতিরিক্ত সচিব। কিন্তু পরে প্রমাণিত হলো, সে অতিরিক্ত সচিব না, সে একজন ভুয়া অতিরিক্ত সচিব। পরে তাকে বের করে দিলাম আমি।

তিনি আরও বলেন, ডিবি আমাকে আব্দুল কাদেরের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং আমি যা যা জানি সবকিছু স্পষ্ট বলেছি। আমার বক্ত্যব্যে ডিবি পুলিশ সন্তুষ্ট।

আইন উপদেষ্টা পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে মুসা বিন শমসের বলেন, আব্দুল কাদের মিথ্যা কথা বলেছে। সে আমার আইন উপদেষ্টা ছিল না।

তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ছবি তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে অনেক লোক এসে ছবি তোলে। কেউ ছবি তুলতে চাইলে আমি তাকে না করতে পারি না। আমার ছবি দেখিয়ে যদি কেউ প্রতারণা করে, সেটার দায়-দায়িত্ব আমি নিতে পারি না।

প্রতারক আব্দুল কাদেরের সঙ্গে ২০ কোটি টাকার চেকের লেনদেনের তথ্য পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটা আমি ফেরত দিয়ে দিয়েছি।

ডিবির যুগ্ম-কমিশনার হারুন-অর-রশীদ বলেন, মুসা বিন শমসেরকে আমার কাছে রহস্যময় মানুষ মনে হয়েছে। প্রতারক আব্দুল কাদের একজন নাইন পাস লোক, তাকে মুসা বিন শমসের উপদেষ্টা বানালেন কেন? ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন কেন? উনি বলেছেন, লাভ দেবেন। কিন্তু উদ্দেশ্য আমরা জানি না। মুসা সাহেব দেখেছেন আব্দুল কাদের বড় বড় লোকের সঙ্গে কথা বলেন। বাস্তবে আব্দুল কাদেরের সঙ্গে উনার অনেক সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, মুসা বিন শমসেরের দাবি তিনি নিজে প্রতারিত হয়েছেন। তিনি নিজেও মামলা করবেন বলেছেন। আমরা সবকিছু তদন্ত করছি। আমরা যেটা করার দরকার সেটাই করবো। তিনি মামলা করলে সেটাও তদন্ত করবো।

মুসা বিন শমসের সম্পর্কে হারুন-অর-রশীদ বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি অন্তঃসারশূন্য একজন মানুষ। একটা ভুয়া লোক মনে হয়েছে। তার কিছু নেই। তার একটা বাড়ি রয়েছে গুলশানে। সেটাও স্ত্রীর নামে। বাংলাদেশে তার নামে কিছু নেই। তবে উনি মুখরোচক গল্প বলেন। তিনি আমাদের কাছে দাবি করেছেন, এ দেশে যা উন্নয়ন হয়েছে সব তার অবদান। তার সঙ্গে আর কী কথা বলবো? তিনি খামখেয়ালিভাবে কথা বলেছেন। এ কথাগুলো আব্দুল কাদের মাঝি বিক্রি করেছেন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহায়তায় গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার প্রতারককে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। তারা হলেন- আব্দুল কাদের চৌধুরী, শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, শহিদুল আলম ও আনিসুর রহমান।

টিটি/এমএইচআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]