স্থানীয় সরকারের আয় ও সক্ষমতা বাড়াতে ডিসিদের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৯ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২২
বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়াতে ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকরা তাদের মাঠ পর্যায়ের অভিযোগের কথা তুলে ধরেছেন, কিছু কিছু প্রশ্ন এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করতে কী কী ব্যবস্থাপনা হাতে নেওয়া যায় সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। রাজধানীর ওসামানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুইদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আয় বৃদ্ধির কোনো রূপরেখা ডিসিদের দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করেছি। পরিষ্কার করে বলেছি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়াতে হবে, তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কথা এসেছে তাদের আরেও লোকবল লাগবে। সেসব লোকবলের জন্য তাদের আয় বৃদ্ধি করতে হবে। সেজন্য কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তাজুল ইসলাম বলেন, পৌরসভাকে শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু কিছু সমস্যা আছে, সেখানে অবকাঠামো নির্মাণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ব্যয় হয়। রাষ্ট্রের সব জায়গা থেকে সমভাবে আয়বণ্টনের ব্যবস্থা নাই। কিন্তু কিছু কিছু এলাকায় অতিরিক্ত আয় হয়, কোনো কোনো জায়গায় কম আয় হয়। সেখানে যাতে ভর্তুকি দেওয়া যায় সেবিষয়ে কথা হয়েছে। এসব বিষয় নিষ্পত্তির জন্য বলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নতির জন্য কাজ করতে হবে। সেজন্য জেলা প্রশাসকদের আন্তরিকতাও পরিলক্ষিত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করা বলতে তাদের আয় বর্ধন করা। যারা আয় বর্ধন করবে, জনগণকে তাদের আয় বর্ধনের জন্য কাজ করতে হবে। আমি পরিষ্কার বলেছি জনগণের আয় বৃদ্ধি করা সরকারের দায়িত্ব। জনগণের আয় বাড়লে সেখানে থেকে রাজস্ব উত্তোলন করবে সরকার। সেটা আবার জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে। মাঠ পর্যায়ে যেহেতু জেলা প্রশাসকরা কাজ করেন, ফলে তাদের অনেক অভিজ্ঞতা আছে। সাধারণ মানুষের কী কী সমস্যা- সেগুলো চিহ্নিত করে তাদের অভিজ্ঞতাকে একসঙ্গে করে আমাদের কাছে পাঠাবেন। এরপর আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ডিসিরা কোনো সমস্যার কথা বলেছেন কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় সমস্যা একই রকম হয় সেটি বলা যাবে না। অনেক জায়গায় ইউএনও-চেয়ারম্যান ভালোভাবে কাজ করছেন। কোথাও কোথাও সমস্যা হয়। যেখানে যেখানে জটিলতা আছে সেখানে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল, আমি নিজেও গুরুত্ব দিয়েছি। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক সবার প্রয়োজন আছে। কৃষক, রিকশাওয়ালাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অন্যকে মর্যাদা দিলে নিজের মর্যাদা আহরণে সমস্যা হবে না।

রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ডিসিরা কোনো দ্বন্দ্বের কথা বলেছেন কিনা জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, দেশটা পরিচালিত হয় রাজনীতিবিদদের দ্বারা। রাজনীতিতে নীতি প্রণয়ন করা, আইন প্রণয়ন করা, জনগণের অধিকার আদায় করা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অধিকার আদায়সহ সবার জন্যই রাজনীতি প্রয়োজন। রাজনীতির সঙ্গে সেখানে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে রাষ্ট্র সেটি সমাধান করবে, আমরাও এ ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, স্থানীয় সরকার সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আইএইচআর/কেএসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]