পার্বত্য অঞ্চলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অভয়ারণ্য চায় সংসদীয় কমিটি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২২
রয়েল বেঙ্গল টাইগার- ফাইল ছবি

পার্বত্য অঞ্চলের বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অভয়ারণ্য চায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। ওই অঞ্চলের প্রতিবেশ ব্যবস্থা বেঙ্গল টাইগারের উপেযোগী কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখতে বলেছে কমিটি।

মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির পরের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয় এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন অংশ নেন।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, এক সময় সারা বাংলাদেশেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছিল। এখন কমতে কমতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। আমাদের রয়েল বেঙ্গল টাইগার এখন কেবল সুন্দরবনে বসবাস করে। এজন্য আমরা ভাবছি পার্বত্য এলাকায় টাইগারের দ্বিতীয় হ্যাবিটেট তৈরি করতে পারি কিনা। মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি দেখছে। পরবর্তী বৈঠকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট মন্ত্রণালয়কে দিতে বলা হয়েছে।

সাভার ট্যানারিতে অ্যাকশন শুরু হয়েছে উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, পরিবেশ দূষণের দায়ে ৭টি ট্যানারির বিদ্যুত, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কিছু বাধা এলেও আমরা এটা করতে পেরেছি। আরও ২৩টির মতো ইউনিট রয়েছে যেগুলোর দূষণের মাত্রা খুবই বেশি। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে। পরিবেশ দূষণ প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

বৈঠকে জনবল বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে লাল তালিকাভুক্ত শিল্প কারখানা প্রায় চার হাজারের মতো। অবৈধ ব্রিক ফিল্ডও আছে ৩ থেকে ৪ হাজার। এইসব প্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের জন্য লোকবল কম। এই জন্য অর্গানোগ্রাম সংশোধন করে লোকবল বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

পরিবেশ খাতে নারীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে আগামী বছর থেকে নারী দিবস উপলক্ষে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী বছর থেকেই এটা চালু করে। এটা কীভাবে হবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় নীতিমালা তৈরি করবে।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে বৈঠকে পরিবেশ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অবদানের জন্য ২০২৩ সালের ৮ মার্চ নারী দিবস থেকে নারী ‘অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানের ব্যবস্থা চালুর জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে।

তিনি বলেন, সরকারি একটি গবেষণা বলেছে সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন ৯৪০ জন থেকে সাড়ে ১১ জন ট্যুরিস্ট যেতে পারে। কিন্তু সেখানে প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি ট্যুরিস্ট যায়। আমরা সেখানে রাত্রীযাপন বন্ধ করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখনও এটা বাস্তবায়ন হয়নি। এটা কীভাবে করা যায় সেটা নিয়ে কাজ হচ্ছে।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালায় সেখানে ধূমপান ও রাত যাপন নিষিদ্ধকরণ এবং দিনে পর্যটক ৯০০ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এইচএস/এসএইচএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।