যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে না এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: আইপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০২ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ঢাকার যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ভূমিকা রাখবে না বলে মনে করেন ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নেতারা।

তারা বলেন, ঢাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের দ্রুত যাতায়াতে ভূমিকা রাখবে এক্সপ্রেসওয়ে। তবে এর মাধ্যমে ঢাকার যানজট কমে যাবে, এর কোনো বাস্তবতা নেই, বরং পুরোপুরি চালু হলে এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্পগুলোর আশপাশে যানজট আরও বাড়তে পারে।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনলাইনে আইপিডি আয়োজিত সমসাময়িক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশ্লেষণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

তারা বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, অর্থনীতি ও বাণিজ্যে সুফল হলে দ্রুত এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত প্রকল্পের পুরোটা চালু করতে হবে। উত্তরাসহ টঙ্গী গাজীপুর, বিমানবন্দর ও পূর্বাচলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ দ্রুততর হবে।

আরও পড়ুন: মিনিটে ১৬ গাড়ি ওঠে এক্সপ্রেসওয়েতে

আইপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সুফল সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত করতে হলে, সিটি বাস সার্ভিসের জন্যও এটি ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ডিজাইন সংশোধন ও বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।

যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে না এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: আইপিডি

এসময় আইপিডির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো বর্তমানে বিমানবন্দর-ফার্মগেট পর্যন্ত সরাসরি বাস চালু করা, এছাড়া পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দর-যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত বাস চালু করা। টোল আদায়ে অটোমেশন পদ্ধতির ব্যবহারের সঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ির গতিবেগ নজরদারি করা।

আইপিডির উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্পকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমরা সমতলের রাস্তা ও পরিবহন ব্যবস্থার চরম অবহেলা করেছি। যার উদাহরণ হচ্ছে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা, যা ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থা। এর দায় পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

আরও পড়ুন: একনজরে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

তিনি বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্পে উঠানামার ক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা দরকার, যেন এই পয়েন্টগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আইপিডির পরিচালক ও পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, মেগা প্রকল্প, পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় কমানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। নতুবা এ ধরনের প্রকল্পের অর্থনৈতিক উপযোগিতা থাকবে না। ব্যক্তিগত গাড়ি নয়, বরং বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে গণপরিবহনে প্রাধান্য দিতে হবে।

আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যানজট নিরসনের জন্য প্রধানত ডিজাইন করা হয়নি, তারপরও এই এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব রাখবে।

আরও পড়ুন: বিমানবন্দর-উত্তরা সড়কের ‘মুশকিল আসান’ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

তিনি আরও বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আংশিক উদ্বোধন ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার বৈষম্যমূলক চিত্রকে স্পষ্ট করে তুলেছে, যা সামাজিক অসন্তোষের জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি উন্নয়নের ন্যায্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ নুরুল হাসান বলেন, আমাদের পরিবহন সংশ্লিষ্ট অনেক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ঠ নয়। প্রকৃত চাহিদা নয়, বরং অনেকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আগ্রহের ভিত্তিতে পরিবহন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে যা মানুষ ও শহরের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. আফসানা হক বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শহরের যানজট কমাবে এ ধরনের আশা করার বস্তুনিষ্ঠতা নেই। এক্সপ্রেসওয়েটি যদি সার্কুলার রোডের এলাইমেন্টে ডিজাইন করা হতো তাহলে শহরের ওপর চাপ কমতো।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরহাদুর রেজা বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব এবং বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হলে তা জনকল্যাণে কাজে আসবে।

ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর পরিবহন পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অভীষ্ট টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর গড়া সম্ভব হবে না।

এমএমএ/জেডএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।