মোমবাতি প্রজ্বলন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা


প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ২৫ মার্চ ২০১৬

বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে লেগে থাকা নিথর দেহটি থেকে অজোরে ঝরছে রক্তের ধারা। মাথা ও মুখের রক্তে লাল বর্ণ ধারণ করেছে পরণে থাকা টি-শার্ট এবং ফুলপ্যান্ট। রক্তাক্ত পা দুটোও ঝাঝড়া হয়ে গেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বুলেটের আঘাতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের পুরো এলাকাজুড়ে পড়ে আছে ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মরদেহগুলো। দেখে মনে হতে পারে কিছুক্ষণ আগেই কোনো হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে এখানে!

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে এভাবে হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সে সময়ের হত্যাযজ্ঞটি কেমন ছিল তা নতুন প্রজন্মকে জানাতেই শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাবির জগন্নাথ হলে এমন ইনস্টলেশন আর্টের প্রদর্শনী করা হয়।

সে দিন পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাবির জগন্নাথ হল ও আল্লামা ইকবাল হল (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল)। ৭ কোটি মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে আত্মহুতি দিয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি পেয়েছে লাল-সবুজের গর্বিত পতাকা।


তাই তো স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও আজ (শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট) ২৫শে মার্চে পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত শহীদদের গণসমাধিতে মোমবাতি প্রজ্বলন করে শ্রদ্ধা জানায় জাতি। গণসমাধির পাশে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চ থেকে জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরণের পাশাপাশি ক্ষণে ক্ষণে ধিক্কার দেয়া হয় পাকিস্তানের তৎকালীন ক্ষমাতালিপ্সু শাসকগোষ্ঠীকে।

শহীদদের গণসমাধিতে মোমবাতি প্রজ্বলন করে শ্রদ্ধা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। এর আগে সকাল ১০টায় জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা। এ বছর এটি নতুন সংযোজন ছিল। এছাড়া বিকেল ৫টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘‘স্মৃতি চিরন্তন’’ এর সামনে ছিল আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোর মিছিল। এটির আয়োজনে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইদের সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’।


সন্ধ্যা ৬টায় জগন্নাথ হলে শহীদদের স্মরণে শুরু হয় স্থাপনাশিল্পের প্রদর্শনী (ইনস্টলেশন আর্ট)। সন্ধ্যা ৭টায় হল প্রাঙ্গণের মূল মঞ্চে ২৫ মার্চের নাটক-‘কালরাত্রি’ মঞ্চায়িত করে ‘পদাতিক নাট্য সংগঠন’। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর স্বামী মমিনুল হক দ্বীপ। এরপর পরই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জগন্নাথ হলের “গণহত্যা ফলক” পর্যন্ত মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ । একই মঞ্চে রাত ৮টায় দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা শেষে জগন্নাথ হলের গণহত্যা ফলক পর্যন্ত মশাল প্রজ্বলন করে ঘাতক দালার নির্মুল কমিটি।

রাত ১১টায় ২৫ মার্চ কালোরাত স্মরণ অনুষ্ঠানের মশাল প্রজ্বলন করে আয়োজক কমিটি। সর্বশেষ ২৫শে মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শহীদদের গণসমাধিতে মোমবাতি প্রজ্বলন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন ও জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অসীম সরকার উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/আরএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।