ঘুষ নেয়ার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত: তদন্ত কমিটি গঠন
এক এসআই ও এএসআইয়ের বিরুদ্ধে রিক্রটম্যান্ট এজেন্সির তিন সদস্যকে আটকে রেখে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। কমিটির সদস্যরা হলেন তেজগাঁও বিভাগের এডিসি হাবিবুন্নবি আনিছুর রশিদ এবং তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) সাত্যকী কবিরাজ ঝুলন।
‘হোপ হিউম্যান রিসোর্স’ নামে ওই রিক্রটম্যান্ট এজেন্সির তিন সদস্যকে আটকে রেখে ৭৫ হাজার টাকা আদায় ও আরো ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার দাবিতে পাসপোর্টসহ তাদের বন্দি রাখেন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই দেবাশীষ। একই অভিযোগ থানাটির ইন্সপেক্টর অপারেশনের বিরুদ্ধে।
এর আগে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশিষ ও এএসআই শফিয়ারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে ডিএমপি।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার জাগো নিউজকে বলেন, আমরা পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি। এর সঙ্গে আরো কেউ জড়িত ছিলেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘হোপ হিউম্যান রিসোর্স’ রিক্রটম্যান্টের এজেন্সির ৩ সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন এসআই দেবাশীষ। রাতেই ওসি বিষয়টি আমাকে জানালে আমি তাদের হয়রানি না করে ছেড়ে দিতে বলি। ওসিও পরে তাদের ছেড়ে দিতে বলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ চলে যান ডিউটিতে।
পরে শনিবার সন্ধ্যায় একজন ফোন করে জানান, শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ তিনজনকে আটকে রেখে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এরইমধ্যে আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে টাকাও নিয়েছে ৭৫ হাজার। এখবর পাওয়ার গোপনে ব্যক্তিগত তদন্ত শুরু করি।
ডিসি বলেন, তদন্তে জানতে পারি এএসআই শফিয়ারের বাড়ি কুড়িগ্রামে। আর যাদের আটক করে থানায় নেয়া হয়েছিল তাদেরও বাড়ি কুড়িগ্রামে। আটকের পর পরিবারের মাধ্যমে ভিকটিমরা ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে থাকা শফিয়ারের হাতে ৭৫ হাজার টাকা তুলে দেন।
বাকি টাকার জন্য ৪৫টি পাসপোর্টসহ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তাদের আটকে রেখেছিল। তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনায় ইন্সপেক্টর অপারেশনও জড়িত। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এসআই দেবাশীষ ও এএসআই শফিয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ইন্সপেক্টর অপারেশনের বিষয়টি ডিএমপি কমিশনার জেনেছেন। রিপোর্টের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেইউ/বিএ