বরিশালে এসআই’র বিরুদ্ধে বিচারকের মামলা


প্রকাশিত: ০১:৩৪ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৬

আসামিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দেয়ায় একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুলাদী থানা পুলিশের এসআই মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বরিশালের এক বিচারক।
 
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তরুন বাছার বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১৭৭ ধারায় (পেনাল কোড) রোববার বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (সিআর মামলা নং-৭১/১৬) দায়ের করেন।
 
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক অমিত কুমার দে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছেন।
 
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার (বেঞ্চ সহকারী) মো. শওকত হোসেন মামলার আরজির বরাত দিয়ে জানান, মুলাদী থানার একটি মামলার (জিআর মামলা নং ১৫৩/১৫) তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই মো. নাসিরউদ্দিন। ওই মামলায় বাদী ও আসামিদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে কোনো আপোস-মিমাংসা না হওয়ার পরও দুই পক্ষের আপোস-মিমাংসা হয়ে গেছে উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত (ফাইনাল) প্রতিবেদন দাখিল করেন।
 
ওই মামলার বাদী চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ আদালতে নারাজী আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ওই দিনই আদালত তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নারাজী আবেদনসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য্য (৩ এপ্রিল) করেন।

তদন্ত কর্মকর্তাকে পরবর্তী ধার্য্য তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য আদালতের জিআরও শাখা থেকে ওই দিনই ১২৮৫ নম্বর স্মারক মূলে মুলাদী থানার এসআই মো. নাসির উদ্দিনের কাছে সমন পাঠানো হয়।
 
জিআরও শাখা এসআই নাসিরউদ্দিনের সমন পাওয়ার বিষয়টি আদালতকে নিশ্চিত করেন। কিন্তু আজ (রোববার) পূর্ব নির্ধারিত তারিখে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অনুপস্থিত থাকেন।
 
এর প্রেক্ষিতে আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পেনাল কোডের ১৭৭ ধারা মোতাবেক অপরাধ করায় বিচারক তরুন বাছার স্বপ্রণোদিত হয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাসিউদ্দিনের (বিপি নং-৭৭৯৮০২৫৮৭১) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

আদালত সূত্র জানায়, মুলাদীর দড়িরচর গ্রামের মো. কাওছার আলম অলি, তার বৃদ্ধা মা হোসনেআরা বেগম এবং বোন সোহেলী আক্তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি ভোগ দখল করে আসছিলেন। একই গ্রামের মাসুম হাওলাদার, গোলাম মাওলা, মোশারেফ হাওলাদার, মনিরুল ইসলাম মিন্টু হাওলাদার সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে অলির জমিতে থাকা সুপারী, নারকেলসহ অন্যান্য ফসল নিয়ে যায়।

এসব ঘটনায় অলি বাদী হয়ে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মুলাদী থানার ওসিকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুলাদী থানা পুলিশের এসআই মো. নাসির উদ্দিন বাদী-আসামির মিমাংসা হয়ে গেছে উল্লেখ করে গত ৩১ জানুয়ারি আদালতে ওই মামলা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ আদালতে নারাজী আবেদন করেন মামলার বাদী অলি। এর প্রেক্ষিতে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নারাজী আবেদনসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য্য (৩ এপ্রিল) করেন। ধার্য্য তারিখ আজ তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন বিচারক।

সাইফ আমীন/ এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।