`রিজার্ভ চুরিতে চীনা হ্যাকাররা জড়িত`
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার চুরির ঘটনায় চীনা হ্যাকাররা জড়িত বলে দাবি করেছেন ফিলিপাইন সিনেটের সদস্য রালফ র্যাক্টো। মঙ্গলবার ফিলিপাইন সিনেটের এক বৈঠকে এ দাবি করেন তিনি। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম দ্য হিল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংক অব রিজার্ভের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনাকে সাইবার চুরির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বলা হচ্ছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার লুট করে অজ্ঞাত হ্যাকাররা। এরপর ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি ) মাধ্যমে ওই অর্থ ম্যানিলার কয়েকটি ক্যাসিনোতে যায়।
তবে এ ঘটনায় চীনের হ্যাকাররা জড়িত বলে প্রথম থেকেই বলা হচ্ছে। রালফ র্যাক্টো বলেন, এটা প্রতীয়মান হচ্ছে; তারা ফিলিপিনো হ্যাকার নয়, সম্ভবত চীনা হ্যাকার। তারা (হ্যাকাররা) ফিলিপাইনের ব্যাংক ব্যবস্থাপনার কিংবা একটি ব্যাংকের দুর্বলতা দেখেছে।
তবে ফিলিপাইনের এই সিনেটর দাবির বিষয়ে কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এর আগে ফিলিপাইন সিনেটের প্যানেল জানায়, দুই চীনা জুয়াড়ি; একজন ম্যাকাও ও অন্যজন বেইজিংয়ের, ওই অর্থ ফিলিপাইনে নিয়ে এসেছে। এই অর্থ ম্যানিলার আরসিবিসিতে জমা থাকলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দায় নিতে অস্বীকার করেছে।
সিনেটের ব্লু রিবন কমিটিকে মাকাতি সিটির জুপিটার শাখার ব্যবস্থাপক মায়া স্যান্তোস দেগুইতো জানান, বাংলাদেশের টাকা নিয়ে চড়া বাজির দাবার চাল হয়েছে। আমি সেই দাবার ঘুঁটি ছিলাম মাত্র। দেগুইতো আরসিবিসি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দোষারোপ করে বলেন, ব্যাপক বিত্তশালী ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এতে জড়িত, এদের প্রভাব বেশ কিছু দেশেও রয়েছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার লুট করে হ্যাকাররা। রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত চীনা ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো জাঙ্কেট অপারেটর কিম অং ইতিমধ্যে প্রথম দফায় এএমএলসির মাধ্যমে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ও দ্বিতীয় দফায় আরো ৩৮ দশমিক দুই মিলিয়ন পেসো ফেরত দিয়েছেন। এই অর্থ বাংলাদেশে ফেরতের বিষয়ে ফিলিপাইনের সিনেটে শুনানি চলছে।
এসআইএস/আরআইপি