প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন সংশোধনের দাবি


প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৬

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০১৬ এর কয়েকটি উপধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলেনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন বলেন, ‘প্রস্তবাবিত শিক্ষা আইনে বলা হয়েছে, সহায়ক শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ডিজিটাল শিখন-শেখানো সামগ্রী প্রকাশ করা যাবে। কিন্তু কোনো প্রকার নোট বা গাইড বই প্রকাশ করা যাবে না। আর যদি কোনো প্রকাশক এই আইন অমান্য করে নোট বা গাইড প্রকাশ করে তাহলে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই জনগণের চাহিদা এককভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারও সকল উন্নয়ন কার্মকাণ্ডে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে উৎসাহিত করছে। তবে শুধু সহায়কগ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণ আরোপ কেন?’

এডুকেশন ওয়াচ ২০১৪ এর এক সমীক্ষা উল্লেখ করে আলমগীর সিকদার বলেন, ‘সমাপনী পরীক্ষায় সহায়ক হিসেবে ৯৬.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী গাইড বই বা সাজেশন নোট কিনছে। এতে শিক্ষার্থীদের গড়ে খরচ হচ্ছে ৫৯৪ টাকা। এই ব্যয় পঞ্চম শ্রেণির মোট শিক্ষা ব্যয়ের ৭.২ শতাংশ। যেহেতু দেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সহায়ক বইয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং নামমাত্র খরচে পাচ্ছে, সেক্ষেত্রে এ বইয়ের প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া কতটুকু যৌক্তিক।’

তিনি আরো বলেন, ‘সহায়ক বই প্রকাশ বন্ধ করা হলে প্রকাশনা শিল্পের সাথে জড়িত ছাপাখানা, বাঁধাই-কারখানা, পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশকগণ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এমনকি প্রকাশনা শিল্পের সাথে জড়িত ২৫ লাখ লোক বেকার হয়ে যাবে। তাই আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত এই আইন বাতিল করার জন্য।’

এ সময় সংগঠনটি তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করে। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি হলো- আগামী রোববার বেলা ১১টায়  প্রকাশকগণ মুখে কালো কাপড় বেঁধে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে নীরব প্রতিবাদ সমাবেশ করবেন। দুপুর ১টায় সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি শ্যামল পাল, পরিচালক রতন চন্দ্র পাল, মির্জা আলী আশরাফ কাসেম, নেসার উদ্দীন আয়ূব ও নিরুপ সাহা নিরু প্রমুখ।

এএস/এসইউ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।