বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ দূর করুন
দেশজুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। এখন বর্ষা মৌসুম। বৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রকৃতির ওপর নির্বিচার অত্যাচার, নদী-খাল দখল হয়ে যাওয়াসহ নানাবিধ কারণে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়েছে অধিকাংশ নদ-নদী। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বন্যা দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে জলাবদ্ধতায় সীমাহীন দুর্ভোগে নগরবাসী। এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি।
বর্তমানে দেশের ১৬টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত। ১৩টি নদীর পানি ২১টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের উজানে ভারত সংলগ্ন বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় রয়েছে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসও। দেশের নদ-নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও তা খুব দ্রুতই বাড়তে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে প্রতিদিনই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নদ-নদীতে পানি বাড়ছে, দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। পানিবন্দি মানুষ দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। রোববার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে, মূল সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সকাল থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন কাজে বের হওয়া মানুষরা। অনেক স্থানে রাস্তা ও ফুটপাত তলিয়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জলাবদ্ধ রাস্তা, ঝড়ছে বৃষ্টি, সেই সঙ্গে নেই পর্যাপ্ত গণপরিবহন। গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) সকালে যারা কাজে বেরিয়েছিন তাদের পড়তে হয়েছে এমন সীমাহীন বিড়ম্বনায়। সকাল থেকে রাজধানীতে বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে বিভিন্ন সড়ক। পানিতে ডুবে থাকা সড়কের মধ্যদিয়ে যখন যানবাহন চলছে তখনই সড়কে উঠছে ঢেউ।
বন্যার হাত থেকে বাঁচার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নদী-খাল দখল বন্ধ করতে হবে। ইতোপূর্বে ঢাকার চারপাশের নদী বাঁচানোর জন্য হাইকোর্টকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। কিন্তু দখল বন্ধ হচ্ছে না। একদিকে উচ্ছেদ অভিযান চলে অন্যদিকে নতুন করে দখল হয়। এই সাপলুডু খেলায় শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় দখলকারীরাই। অথচ নদী দখল বন্ধ করতে না পারলে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। পরিবেশ সচেতনতার এ যুগে নদীর অপমৃত্যু হবে আর সকলে চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা হতে পারে না। দখলকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া নদী দখল বন্ধ করা যাবে না। নদী দখলে একটি দুষ্টচক্র অত্যন্ত ক্রিয়াশীল। এ চক্র ভাঙতে হবে। প্রশাসনের কোন গাফিলতি থাকলে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা নদীমাতৃক বাংলাদেশকে তার আপন মহিমায় দেখতে চাই।
বন্যা এবার দীর্ঘমেয়াদী হচ্ছে। এজন্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিতে হবে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ। পানিবাহিত রোগ থেকে বাঁচার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বন্যা চলে যাওয়ার পর যে সমস্ত রোগব্যাধির প্রকোপ দেখা দেয় সেগুলোর ব্যাপারেও নিতে হবে আগাম প্রস্তুতি। বন্যার কারণে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ উছিলায় নিত্যপণ্যের দাম যেন না বাড়ে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
এইচআর/এমকেএইচ