কমলাপুর স্টেশন

ডা. বিএম আতিকুজ্জামান
ডা. বিএম আতিকুজ্জামান ডা. বিএম আতিকুজ্জামান
প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

বাসা থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। আমার শৈশব, তারুণ্যের অনেক স্মৃতি এ স্টেশন ঘিরে।

১৯৭৩ সালে পলাশী ব্যারাকের বাসা ছেড়ে আমরা মতিঝিল এ জি বি কলোনির বাসায় এসে উঠলাম। আমার বাবা ছুটির দিনগুলোতে মাঝে মধ্যে আমাদের তিন ভাই বোনকে নিয়ে হাঁটতে যেতেন কমলাপুর স্টেশনে।

তখন স্টেশনে ভীড় থাকতো না। খোলামেলা স্টেশন। কোথাও কোন গেট নেই। হাঁটতে হাঁটতে প্লাটফর্ম ধরে একেবারে শেষ মাথায় চলে যেতাম আমরা। আব্বা বলতেন আমরা এখন শাহজাহানপুরে।

কমলাপুর স্টেশন মানেই ছিল বিশালতা, মুক্ত আকাশ, আধুনিকতা। আমি অবাক হয়ে সাপের ফণার মতো কিংবা তাঁবুর মতো তৈরি করা ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম।

jagonews24

আমার বাবা বলতেন এই স্টেশনের কোন দরোজা জানালা নেই। এটি একটি ‘ শহুরে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আধুনিকতা’ বা ‘Urban Tropical Modernism’ । কঠিন এই শব্দগুলোর অর্থ অনুভব করতে অনেক সময় লেগেছিল।

আমাদের চোখের সামনেই কমলাপুর স্টেশন আরো ব্যস্ত হয়ে গেল। কিন্তু আমি সময় হাতে থাকলে একা একা এই স্টেশনে যেয়ে বসে থাকতাম। বিশেষ করে হাঁটতে হাঁটতে প্লাটফর্মের শেষ মাথা পর্যন্ত যেয়ে ঘাসের ওপর বসে দূর থেকে স্টেশনের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ওখানে বসলে আকাশটাকে আরো বড়ো লাগতো। আরো আপন লাগতো।

ঢাকার পুরোনো রেল স্টেশন ফুলবাড়িয়াকে পরিবর্তন করে মতিঝিলের পাশে কমলাপুরের ধানক্ষেতের মাঝে স্টেশন করবার পরিকল্পনা হয়েছিল ১৯৪৮ এ। এক দশক পর ১৯৫৮ এ ব্যাপারটা পাকাপোক্ত হয়। Berger Constants নামে New Jersey র একটি প্রতিষ্ঠান স্টেশনটির ডিজাইনের কাজ শুরু করে ১৯৬০ সালে। Daniel Dunham যখন স্থপতিবিদ হিসেবে কাজ শুরু করেন, তখন Robert Boughey এখানে আসেন ঢাকায় কাজ শুরু করতে।

১৯৬৮ সালের ২৭ শে এপ্রিল জেনারেল আইয়ুব খান এসেছিলেন এটি উদ্বোধন করতে। আমার বাবা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অনেকের সাথে তিনিও গিয়েছিলেন সেখানে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার প্রতিবাদ করতে।

আমার ঠিক মনে নেই শেষ কবে আমি কমলাপুর স্টেশনে গিয়েছি। তবে এই স্টেশনের সাথে আমার নাড়ির টান অনুভব করি। বিশেষত স্থাপত্যকলার কথা ভাবলে।

jagonews24

ঢাকার কথা ভাবলে ঢাকার পুরোনো এবং অপেক্ষাকৃত নতুন স্থাপনাগুলোর মধ্যে আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, কার্জন হল, সংসদ ভবন, টিএসসি আর কমলাপুর স্টেশনের স্থাপত্যশৈলী আমাকে নষ্টালজিক করে দেয়।

পুরোনো স্থাপত্যগুলোকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

যখন শুনি কমলাপুর স্টেশন, টি এস সি ভেঙে ফেলা হবে, তখন খুব কষ্ট লাগে। আমাদের ঐতিহ্যের অনেক কিছুইতো এসবকে ঘিরে।

আমি এগুলো সংরক্ষণের দাবি জানাই।

এইচআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]