আইসিসিবি সভাপতি
খালেদা জিয়ার নীতিতেই অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে ওঠে
আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়ার সরকারের সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনের শাসন, বিনিয়োগ নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে। সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তার কিছু উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
খালেদা জিয়ার শিক্ষা ও মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, ফুড ফর এডুকেশন, প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার, মেয়েদের পড়াশোনার সহায়তা অনেক দরিদ্র পরিবারকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছিল। এর ফলে আরও বেশি মেয়ে স্কুলে যেতে পেরেছে এবং নারীশিক্ষা এগিয়ে গিয়েছে। আজ দেশের নারীর অংশগ্রহণ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, এর পেছনে খালেদা জিয়ার এসব উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখে।
একজন রাষ্ট্রনায়কের মূল্যায়ন শুধু ক্ষমতায় থাকাকালীন কী করেছেন, তা দিয়ে হয় না উল্লেখ করে আইসিসিবি সভাপতি বলেন, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তিনি (খালেদা জিয়া) কীভাবে সময় কাটিয়েছেন এবং সংকট মোকাবিলা করেছেন, সেটাও ইতিহাস মনে রাখে। দেশ ও রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পর্ক সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
‘বাংলাদেশ ছাড়া আমার কোনো ঘর নেই’—খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এই কথাটা আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের ভবিষ্যৎ এদেশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশের স্থিতিশীলতা, মানুষের আস্থা যতটা বাড়বে, আমাদের সবার সুযোগ ততটা বাড়বে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ী সমাজও এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে নিয়মকানুন শক্ত হবে, বিশ্বাস তৈরি হবে, তরুণ প্রজন্ম সামনে এগিয়ে যাওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবে এবং বিদেশে জাতীয় সম্পদ পাচারের প্রবণতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিলেন না। তিনি পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন পরিবার, সমাজ ও সিস্টেমকে ভুলে যাননি। সেখানে একটা নতুন দিগন্ত তিনি তৈরি করেছিলেন।
শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।
কেএইচ/এমকেআর