সংসদে জামায়াতের এমপি

বাংলাদেশে মানুষের আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার সংসদে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের এমপি মুজিবুর রহমান

বাংলাদেশে মানুষের আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেছেন, আমাদের ফখরুল ইসলাম সাহেব (বিএনপি মহাসচিব) বলেছিলেন, ‘আমরা শরিয়তের আইন বিশ্বাস করি না’। পরে অবশ্য আত্মসমপর্ণ করে নির্বাচনের আগে বলেছেন শরিয়তের বিরুদ্ধে আমরা কোনো আইন পাস করবো না। ধন্যবাদ উনাকে, অন্তত তওবা করে ফিরে এসেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর আইন চাই। আপনারা (বিএনপি) আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবেন না বলেছেন। অতএব আসুন, বাংলাদেশে মানুষের আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এদেশে ইসলামি আইন চালু ও ইসলামি বোর্ড গঠনের আহ্বান জানান জামায়াতের এই এমপি। তিনি এজন্য জাতীয় সংসদে থাকা মাদরাসা পাস করা এমপি এবং বাইরে যত মাযহাব যুক্ত ওলামায়ে কেরাম আছে, এমনকি আহলে হাদিস আছে সব ওলামাকে নিয়ে একটি ইসলামি বোর্ড গঠন করতে বলেন। যারা কি না ইসলামি আইন চালুর জন্য পরামর্শ দেবে এবং দেশে সেই আইন কার্যকারী হবে।

মুজিবুর রহমান বলেন, আমাদের প্রথম চিন্তা হচ্ছে দুনিয়াতে আমরা কেউ থাকবো না। মরার পরে আমাদের আসল জায়গা। এখানে যা আলোচনা হচ্ছে সব দুনিয়াকেন্দ্রিক। আখেরাতে কী হবে সেই চিন্তা কারও মনে নেই।

তিনি সূরা আল ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতের অনুবাদ করে বলেন, যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে পারলো সে-ই সত্যিকার সফল হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পারলো, সে-ই সত্যিকার সফল হতে পারবে।

জামায়াতের এ এমপি বলেন, সংসদ লবিতে ঢোকার সময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা এবং ঈমান এটা দেখার পরে মনে হয়, আল্লাহর প্রতি যদি ঈমান থাকে তাহলে তো আমাদের আইনের উৎস আল কোরআন। কোরআনের বিধান বাংলাদেশে চালু হওয়া উচিত ছিল। শতকরা ৯০ জন মানুষ, যারা কোরআনে বিশ্বাস করে, এই কোরআনে যে বিধানগুলো আছে ৬৬৬৬টি আয়াতের মধ্যে ১ হাজার আয়াত আছে ‘হ্যাঁ’ বোধক আইন, ১ হাজার আয়াত আছে ‘না’ বোধক আইন। যেগুলো বাংলাদেশে কায়েম করতে হবে। এটা আমাদের দাবি।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, সূরা হজের ৪১ নম্বর আয়াতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

কোরআনের আয়াতের অনুবাদ করে তিনি বলেন, যারা রাষ্ট্রক্ষমতা পাবে তারা দেশে নামাজ চালু করে মানুষের চরিত্র ভালো করে দেবে এবং যাকাত চালু করে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব দেশ থেকে বিতাড়িত করবে। ভালো কাজ করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে, খারাপ কাজ বন্ধ করে অশান্তির আগুন থেকে মানুষকে রক্ষা করবে।

মুজিবুর রহমান বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য আওয়ামী লীগ এসেছে ছয়বার, বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি দুইবার- এতগুলা সরকার এলেও জাতীয় সংসদে কোরআনের একটি আইনও চালু করে নাই। আমরা এদেশে কোরআনের আইন চালু করে মানুষকে মুক্তি দেবো। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, আপনাকেও জিজ্ঞাসা করা হবে আমাকেও করা হবে- বাংলাদেশে কেন নামাজ চালু করা হলো না? কেন যাকাত চালু করে ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্ব দেশ থেকে দূর করা হলো না? কেন ভালো কাজ চালু করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হলো না? কেন খারাপ কাজগুলো বন্ধ করে অশান্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করা হলো না?

তিনি বলেন, আমাদের দেশের সুদ, ঘুস, মদ, জুয়া, জেনা-ব্যাভিচার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি যারা করে এরা কোনো দলের লোক না। কিন্তু বলা হয় যে একদল চাঁদাবাজি করে পালায় গেছে, আরেক দল চাঁদাবাজি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটা বলার পর কোন দল যদি রিঅ্যাকশন করে, তখন তো বোঝা যায় এই চাঁদাবাজদের দলের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। চাঁদবাজ কোনো দলের সদস্য হতে পারে না, চাঁদবাজ চাঁদাবাজই। তাদের ধরতে হবে, গ্রেফতার করতে হবে। বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে হবে। 

সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা একটা ভোটের শপথ নিলাম, আরেকটা ভোটের শপথ নিলাম না। এতে তো জনগণের ভোটের সঙ্গে ভালো আচারণ করা হলো না। জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হলো। যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায় তাহলে সংসদ সদস্য পদও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে আইনজ্ঞরা পর্যালোচনা করছেন। শেষে আমও যাবে ছালাও যাবে। তাই শপথ নিয়ে কার্যকর করতে হবে। তা না হলে দ্বন্দ্ব যেখানে শুরু হয়েছে, তার সমাধান হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অক্ষরে অক্ষরে এটা পালন করবেন, তাহলে শপথটা নিলে অসুবিধাটা কোথায়? আমরা তো বুঝি না। এজন্য শপথ নিয়ে এটা সমাধান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির একটা কথা হয়েছে। কোরআনের একটি আয়াতকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে, আল্লাহ তালা সূরা তওবার ১১১ নম্বর আয়াতে বলেছেন, আল্লাহতালা জানমালকে কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। এটা আল্লাহর কথা, আপনি জানমাল দেবেন, জান্নাতে যেতে পারবেন। জানমাল আল্লাহর পথে দেবেন না, আপনার কপালে জান্নাত হবে না। এটা আল্লাহর কথা, এটা মানুষের কথা না। 

‘আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম- জামায়াতের কোন নেতা বলেছে আমার কাছে জান্নাতের টিকিট আছে, বিক্রি করছি। প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে, তিনি কেন এটা বলছেন’- বলেন জামায়াতের এ এমপি।

এমওএস/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।