নাহিদ ইসলাম
জুলাই গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব এনসিপিকেই নিতে হবে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব জাতীয় নাগরিক পার্টিকেই (এনসিপি) নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নির্বাচনের আগে সংস্কারের কথা বললেও এখন অনেক রাজনৈতিক দলের অবস্থান বদলে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সংস্কার এবং জুলাই গণহত্যার বিচার বাস্তবায়নের দায়িত্ব এনসিপিকেই নিতে হবে। এ জন্য তরুণ প্রজন্ম ও গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সবাইকে সংসদ ও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার হরণ এবং নির্যাতনের অভিযোগ বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।
দেশের সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সাম্প্রদায়িক উসকানি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামের হাজারো নারী রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত রাখা যায়নি, যা সাংগঠনিক ব্যর্থতা। ভবিষ্যতে নারীদের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দেশে হামের প্রকোপ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, শুধু আগের সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। বর্তমান সরকারকেও জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। শিশুদের সুচিকিৎসা ও আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঐক্যই এনসিপির সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি অভ্যন্তরীণ বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি চট্টগ্রামের বিপ্লবী ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, সূর্যসেন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত এ অঞ্চলের সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। সেই চেতনা ধারণ করেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
এমআরএএইচ/এমএমকে