ইলিয়াস-চৌধুরী আলমের পথেই কি সালাহ উদ্দিন
টানা ৮ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিনের কোন সন্ধ্যান মেলেনি। অন্যদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি সালাহ উদ্দিনকে তারা গ্রেফতার করেননি। এ নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা যেন আরো গভীর হয়ে উঠছে। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী অালমের ভাগ্য সালাহ উদ্দিনকে বরণ করতে হবে কিনা এই নিয়েও নানামূখী আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বনানীর ২ নম্বর সড়কের সাউথপয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজের সামনে থেকে গভীর রাতে নিখোঁজ হয়েছিলেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। অন্যদিকে ২০১০ সালের ২৫শে জুন রাতে নিখোঁজ হন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের রমনা শাহবাগ এলাকার তৎকালীন কমিশনার চৌধুরী আলম। বিএনপি ঐ দুই নেতাকেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আটক বা গ্রেফতার করেনি বলে দাবি করেছিল।
সূত্র জানায়, সালাহ উদ্দিনকে না পাওযার বেদনায় উদ্বেগের মধ্যেই দিনাতিপাত করছে তার পরিবার। পাশাপাশি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও। সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদের একটাই দাবি তার স্বামীকে যেন আদালতে হাজির করা হয়।
এদিকে টানা ৮দিন ধরে সালাহ উদ্দিনের কোন সন্ধ্যান না পাওয়ায় হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ২০ দলীয় জোট। ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালিত হবে। পাশাপাশি তাকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশেরও ঘোষণা করেছে তারা।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে সাজানো গল্প ফাঁদা হয়েছে এবং শীর্ষ পর্যায় থেকে উৎকট ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হয়েছে। এতে তার পরিবারের এবং আমাদের উৎকণ্ঠা তীব্র হচ্ছে।
তিনি বলেন, সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু তার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাকে উধাও করে ফেলার মতো ধৃষ্টতাকে কোনো ক্রমেই মেনে নেয়া যায় না।
এদিকে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনের ব্যাপারটা ইলিয়াস আলীর মতো হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তিনি মনে করেন, ইলিয়াস আলীর বিষয়টি আজও স্পষ্ট হয়নি। যে কোনো দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটা মানে আপনি-আমি সবাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাওয়া।
রফিক-উল-হক বলেন, ‘এটা একটা রহস্য মনে হচ্ছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী বললেন, “মালপত্রের সঙ্গে ওনাকে বের করে দিয়েছে।” তাহলে প্রধানমন্ত্রী জানেন, সালাহ উদ্দিন কোথায় গিয়েছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, ‘সালাহ উদ্দিন আহমদের নিখোঁজের বিষয়টিতে নাগরিক হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন। তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। আমরা চাই দ্রুত এর সমাধান হউক।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হয়েছেন কিন্তু তাকে এখনো পাওয়া যায়নি। এর আগে চৌধুরী আলম নিখোঁজ হয়েছেন। তারও সন্ধান মেলেনি। এখন আবার সালাহ উদ্দিনকে না পাওয়া এসব কিছুই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা বলে আমার কাছে মনে হয়। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়াটাই কাম্য।
এমএম/আরএস