সেলিম-খোকনের লড়াই শুরু


প্রকাশিত: ০৪:০৬ পিএম, ২২ মার্চ ২০১৫

তিন সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনোও একমাস বাকি। সবে শুরু হয়েছে মনোনয়ন সংগ্রহ। তবে এতেই জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থিতা নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর লড়াই ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।  

জানা গেছে, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের মধ্যে লড়াই এখন প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে। একে অপরকে টেক্কা দিয়ে নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকতে এই দুই প্রভাবশালী নেতা নানা কৌশল অবলম্বন করছে।  

দক্ষিণের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে অপর সম্ভাব্য প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। খোকন ছাড়াও তার একাধিক সমর্থক (যারা সাধারণ ভোটার হিসেবে) হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে ইসিতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।

ইসি সূত্র জানায়, শনি ও রোববার সাঈদ খোকন নিজে এবং তার বেশ কিছু সমর্থক হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। ইসি সেই সব অভিযোগ আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রী সাঈদ খোকনকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিলেও ঋণখেলাপির অভিযোগে তার অবস্থান একটু নড়বড়ে হয়ে য়ায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন দলের অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত দলের হাইকমান্ড সাঈদ খোকনের পক্ষে রয়েছে। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে ইসি যদি সাঈদ খোকনের প্রার্থিতা বাতিল করে সে ক্ষেত্রে হাজী সেলিমকে দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হতে পারে। হাজী সেলিম ছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন দলীয় সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে সাঈদ খোকনের দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, গত শুক্রবার জুমআ নামাজের পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আগাম প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি মিছিল-সমাবেশ ও  গণসংযোগ করছেন। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে বেশ কিছু যুবক তার সঙ্গে এলাকায় ঘুরছে। এতে সাধারণ নাগরিকরা ভীতসন্ত্রস্ত হচ্ছে। এ কর্মকাÐ ইসির আচরণবিধি লঙ্ঘন।

তিনি আরও বলেন, হাজী সেলিম আগাম প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচনী আইন অমান্য করে নির্বাচনে প্রভাব ফেলছেন। একই সঙ্গে অন্য প্রার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রভাব ফেলছেন। হাজী মোহাম্মদ সেলিম ঢাকা-৭ আসনের একজন সংসদ সদস্য। তিনি সেই প্রভাবে নির্বাচনী আইন ও বিধির তোয়াক্কা করছেন না। তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে হাজী মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ইসি যেহেতু এখনো আমাকে চিঠি দিয়ে জানায়নি। তাই এ বিষয়ে কথা বলব না। তবে ইসি যদি চিঠি দিয়ে কিছু জানায় বা জানতে চায় সে ক্ষেত্রে কথা বলব।

এদিকে অভিযোগের ব্যাপরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইসির পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে হাজী সেলিমকে সতর্ক করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মিহির সরওয়ার মোর্শেদ বলেন, আমরা যেসব অভিযোগ পাচ্ছি, সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। একই সঙ্গে তথ্য সংরক্ষণ করছি। পরবর্তীতে ইসি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

এএইচ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।