প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আশঙ্কাজনকভাবে রাজনীতিতে জড়াচ্ছেন


প্রকাশিত: ১০:১০ এএম, ০১ এপ্রিল ২০১৫

দেশের রাজনীতিতে আশঙ্কাজনকভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করেই কর্মকর্তারা রাজনীতিতে জড়াচ্ছেন যা অত্যন্ত উদ্বেগের। বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রশাসনিক সংস্কার, দু’য়ে মিলে হতে পারে দুর্নীতির প্রতিকার’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৫ উপলক্ষে সেমিনারটির আয়োজন করে দুদক। সাবেক সচিব ড. ইনাম আহমেদ চৌধুরী সেমিনারে বলেন, যখন কোনো মন্ত্রী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বলে থাকেন, ওমুক প্রার্থীকে নির্বাচনে জেতাতে হবে, তখন প্রশাসনের কর্মকর্তারাও মন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে থাকেন।

তিনি বলেন, এক ধরনের নির্দেশনার মধ্যে পড়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ বাধ্য হয়ে জড়াচ্ছেন আবার কেউ স্বপ্রণোদিতভাবে জড়িয়ে পড়ছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধি করা হলে দুর্নীতি রোধ সম্ভব। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যেমন বলেছিলেন, দেশ স্বাধীনে প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। ঠিক তেমনিভাবে প্রত্যেক ঘরে ঘরে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সে জন্য তরুণদের সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, যে দেশের সংসদ কাজ করে না, সংসদীয় কমিটি যথাযথ কাজ করতে পারে না, সে দেশে দুর্নীতির দূর করা যায় না। তাই জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে হবে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগের বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের সুযোগে দুর্নীতিবাজরা উৎসাহিত হচ্ছেন। কেননা এ সুযোগে রাষ্ট্র জনগণকে বলছে, ‘তুমি চুরি কর’। সরকার থাকলে সম্পদ বৃদ্ধি পাবেই। দুর্নীতি দূর করা দরকার।

কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নষ্ট গণতন্ত্রে দুর্নীতি বেশি। গণতন্ত্র তার সঠিক পথে এলে সংসদ কার্য্যকর হবে। তিনি বলেন, দুদককে সাধারণ জনগণের আস্থা বাড়াতে হলে দৃশ্যমান কিছু করে দেখাতে হবে। বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিতে পারলে দুদক সফল হবে না।

দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাব্বত খান। বিশেষ অতিথি দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ।

অতিথির মধ্যে দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ দুদকের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।