কে হচ্ছেন ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি


প্রকাশিত: ০২:১৬ পিএম, ১০ মে ২০১৫

মেয়াদোত্তীর্ণের দুই বছর পর আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম  ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম কাউন্সিল। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত এ কাউন্সিলের ঘোষণা দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষিত হওয়া কাউন্সিলকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। ঢাবি ক্যাম্পাসসহ সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি নিয়ে আলোচনা।

কে হচ্ছেন আগামী দিনের ছাত্রলীগের কাণ্ডারি, কেমন তার ব্যক্তি ইমেজ, তার নেতৃত্বই বা কী রকম কিংবা চলতি কমিটির ভুলগুলো শোধরাতে কতোটুকু সক্ষম হবেন নতুন কমিটি? এছাড়া আগামী দিনে ক্ষমতাসীনদের টার্নিং সময়ে ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠন হিসেবে দলের প্রয়োজনে কতোটুকু ভূমিকা রাখতে পারবেন তারা? এমনই আলোচনা এখন তুঙ্গে।

এদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও খুঁজছেন ক্যাম্পাস রাজনীতিতে অভিজ্ঞ, আনুগত্যশীল, দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী ও নেতাকর্মীদের আস্থাভাজনকে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের হাইব্রিড নেতারাও কাজ করে যাচ্ছেন নিজেদের আস্থাভাজনদের নতুন কমিটিতে স্থান করে দিতে। এজন্য তারা নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে তদবিরও বাড়িয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। আর পদ প্রত্যাশীরাও এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ে। এজন্য কৌশলে এগুচ্ছেন তারা। সেক্ষেত্রে ছাত্রলীগের নীতি নির্ধারকদের বাসায় ধরণা দেওয়া থেকে শুরু করে প্রাধান্য পাচ্ছে অঞ্চলভিত্তিক রাজনীতিরও।

ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যেসব এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের শীর্ষপদে কেউ নেতৃত্বে আসেননি এবং ভবিষ্যতে যেসব এলাকা থেকে নেতা তৈরির দরকার আছে সেসব এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত যোগ্যদের মধ্য থেকে নেতা তৈরি করার। সেই হিসেবেই গত ২৬তম সম্মেলনে রংপুর অঞ্চল থেকে মাহমুদুল হাসান রিপন ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন শীর্ষনেতা হিসেবে বাছাই হয়েছিলেন। ২৭তম কাউন্সিলে আগের খুলনা অঞ্চল থেকে এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ সভাপতি এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে সিদ্দিকী নাজমূল আলম নির্বাচিত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক পর্যবেক্ষণে এবার এগিয়ে আছেন বৃহত্তর ফরিদপুর এবং বরিশাল অঞ্চলের পদ প্রত্যাশীরা। তবে আঞ্চলিক সিদ্ধান্তের বাইরে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসছে কি-না সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ২৮তম কাউন্সিলে নতুন কমিটিতে নেতৃত্বে আলোচনার শীর্ষে আছেন বৃহত্তর ফরিদপুর থেকে বর্তমান কমিটির পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক কাজী এনায়েত।

গত কমিটিতে থাকলেও ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পর্যায়ে যাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, কৃষি শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক রাইসুল ইসলাম জুয়েল এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা।

অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে কমিটি দিলে কপাল খুলে যেতে পারে গত ১৫ বছর যাবত কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান না পাওয়া বরিশালের অঞ্চলের পদ প্রত্যাশীদের। এ অঞ্চল থেকে এগিয়ে রয়েছেন ক্রীড়া সম্পাদক আবিদ আল হাসান, সহ-সম্পাদক আসাদুজ্জামান নাদিম, উপ-প্রচার সম্পাদক আরিফুজ্জামান লিমন, ঢাবি যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্র শেখর মন্ডল এবং সহ-সভাপতি আরিফুজ্জামান রোহান।

এদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে আলোচনার রয়েছেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক শাহনেওয়াজ প্রধান শুভ, উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব হাসান পলাশ। চট্টগ্রাম ও কুমিল­া অঞ্চল থেকে এগিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এরশাদুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ সবুজ এবং ঢাবি যুগ্ম সম্পাদক এইচ এম আল-আমিন আহমেদ।

এছাড়াও আলোচনায় আছেন সিলেট অঞ্চল থেকে আইন সম্পাদক ময়েজউদ্দিন শরীফ রুয়েল, খুলনা অঞ্চল থেকে ঢাবির শহিদুল­াহ হলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় সদস্য এনামুল হক প্রিন্স।

এই আঞ্চলিক পর্যবেক্ষণের বাইরেও থাকছে আরো কিছু পরিসংখ্যান। আসন্ন কাউন্সিলে সংগঠনের সাবেক দুই সভাপতি লিয়াকত শিকদার ও মাহমুদুল হাসান রিপনের আস্থাভাজনদের নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই দুই নেতার আস্থাভাজনদের থেকেই হয়তোবা নির্ধারিত হতে যাচ্ছে ছাত্রলীগের আগামী দিনের কাণ্ডারি। প্যানেল নির্বাচন অথবা একক নির্বাচন পদ্ধতিতেই হতে পারে কমিটি।

অনেক সমীকরণই কষা হতে পারে স্বল্প সময়ে। ইঁদুর দৌড়ে এগিয়ে থাকা পদ-প্রত্যাশীরাও হয়তো ভাবতে পারেন আমিইতো স্বর্বেস্বর্বা। কিন্তু যে যাই বলুক সকলকে অপেক্ষা করতে হবে ঘোষিত হওয়া জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সর্ব বৃহৎ এই ছাত্রসংগঠনের সকল নেতা-কর্মীরই আশা এমনই ব্যক্তি আগামী দিনের কাণ্ডারি নির্বাচিত হবেন, যিনি ক্যাম্পাস রাজনীতিতে অভিজ্ঞ, আনুগত্যশীল, দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী ও নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন।

এমএইচ/বিএ/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।