শাপলা চত্বর ইস্যুতে বিএনপির ভূমিকা বিশ্লেষণের দাবি রাখে: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ১২ মে ২০২৬
কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনায় বিএনপির ভূমিকা কেমন ছিল, তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সে সময় দেশের জনগণের একটি বড় অংশ বিপদগ্রস্ত থাকলেও বিরোধীদল হিসেবে বিএনপির আরও সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।

বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, হেফাজতের ৫ মে আন্দোলনে বিএনপি ছিল বলে দাবি করা হলেও সে সময় দলটির প্রকৃত ভূমিকা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় আলেম-ওলামা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। এমনকি গুলির মুখে মাদরাসার ছাত্রদের ঠেলে দেওয়ার দায়ও রাজনৈতিক দলগুলোর এড়ানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের আড়ালে বিরোধী মত দমন এবং ইসলামবিদ্বেষ উসকে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় হেফাজতের আন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ হিসেবে প্রচার করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। যারা প্রকৃতপক্ষে ভুক্তভোগী ছিলেন, তাদেরই অপরাধী হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। দাড়ি-টুপি পরিহিত মানুষ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতা ছিল।

শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় পরে জুলাই গণহত্যার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি সমর্থন বা অসমর্থনের বিষয়টি আলাদা, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সব গোষ্ঠীর মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা। নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর গুলি চালানো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ। আলেম-ওলামা ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সমাজের বাইরে আলাদা কোনো গোষ্ঠী হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। আলেম-ওলামা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদেরও সমান নাগরিক অধিকার রয়েছে এবং দেশের জাতীয় ইতিহাসে তাদের অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি রাখে।

সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের হুমকি এবং চলমান হত্যার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এবং মানুষ হত্যা করে বন্ধুত্ব হয় না। মানুষ একদিন ওই বেড়া উপড়ে ফেলবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান— সবার নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে।

২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিল শাপলা চত্বরে নিরীহ আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতার ওপর নারকীয় গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় ৪ দফা দাবি উত্থাপন করে এনসিপি সমর্থিত জাতীয় ওলামা অ্যালায়েন্স।

এর মধ্যে রয়েছে— শাপলা চত্বরের সেই রাতের প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন; সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই গণহত্যার নির্দেশদাতা এবং মাঠপর্যায়ে সম্পৃক্ত পুলিশ ও র‍্যাবের কর্মকর্তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা; শহীদ পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহত যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের সুচিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা; আলেম-উলামাদের বিরুদ্ধে গত একযুগে দায়ের করা সব মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।

আলোচনায় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। হাসিনাহীন হাসিনা ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছি আমরা। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হাসিনাকে উৎখাত করেছি। কিন্তু আমরা গাঠনিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি। যুক্তরাষ্ট্র এখানে রেজিম চেঞ্জ করেছে, তারাই এখন ক্ষমতায় রয়েছে, ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। সামনে অনেক বড় বিপদ। বাইরে হিন্দুত্ববাদী বিপদ। আমাদের বিপ্লবী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, শাপলা চত্বর ছিল কালচার ফাইটের অংশ। এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর এই ফাইট জারি রাখতে হবে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, অন্য হত্যার সঙ্গে শাপলা গণহত্যার পার্থক্য রয়েছে। একটি জনগোষ্ঠীকে আলাদা করে হত্যা করা হয়েছে, সেটি যেন আমরা ভুলে না যাই। তাদের শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল-আমিন বলেন, সুনির্দিষ্ট অপরাধীদের আসামি করে মামলা করতে হবে। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে অনেক বছর পরেও এই বিচারের দাবি তুলতে হবে আমাদের।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, চিন্তক ও গবেষক মুসা আল হাফিজ, এনইউএ’র সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খানসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

এনএস/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।