আদিবাসী তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জাতির মাথা হেট হয়েছে : সুরঞ্জিত
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, আদিবাসী তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় পুরো জাতির মাথা হেট হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা কমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার রাজধানীর আইডিবি ভবনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। চলমান রাজনীতি বিষয়ে বঙ্গবন্ধু একাডেমি নামের একটি সংগঠন ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে আদিবাসী তরুণীটিকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর পুরো ঢাকার রাস্তায় ঘুরে ঘুরে মেয়েটি সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হলো। রাস্তায় পুলিশ, মোড়ে মোড়ে পুলিশ, পুলিশের টহলে সাধারণ মানুষ অস্থির। অথচ মেয়েটিকে রক্ষা করতে পারলো না। এ লজ্জায় পুরো জাতির মাথা নিচু হয়েছে। মানুষ পুলিশ কর্তাদের কাছ থেকে আর দর্শন কথা শুনতে চায় না। তারা ওই ঘটনার দ্রুত বিচার দেখতে চায়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা, সংস্কৃতি আজ দানবের সংস্কৃতি হয়ে গেছে। বর্ষবরণে নারীর ওপর হামলার ঘটনা তাই প্রমাণ করে। অথচ পুলিশ ওই ঘটনারও কোনো বিহিত করতে পারেনি। পুলিশের এই দায়িত্ব অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এই ধস ঠেকাতে না পারলে বিপদ অনিবার্য হয়ে উঠবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে জাতির উন্নয়ন হবে না।
মানবপাচারের ব্যাপারে বর্ষিয়ান এ রাজনীতিক বলেন, মানবপাচারের ঘটনা ইতিহাসের সকল সীমানা অতিক্রম করেছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের শত গণকবর উদ্ধার হয়েছে। একটি কবরেই একশ` বাঙালির কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। এটি পুরো বিশ্বকে হতবাক করেছে। হাজার হাজার মানুষ সাগরে ভাসছে আর তীর থেকে রাষ্ট্র তাদের তাড়া করছে। সভ্যতার এমন সময়েও এই মানবিক বিপর্যয় দেখতে হবে, তা ভাবতেই অবাক লাগছে।
জি টু জি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) চুক্তির সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, সরকার বিদেশে লোক পাঠানোর জন্য যেভাবে আশা দিয়েছিল, তা পূরণ হয়নি বলেই মানুষ নৌকায় করে সাগর পাড়ি দিতে চাইছে। সরকারকে ভাবতে হবে অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি এখন প্রবাসীদের পাঠানো টাকা। এখানে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।
মানবপাচারের ঘটনা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। সরকারের উচিত ছিল আরো দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা। ব্লগাদের হত্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, সমাজবিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠী একের পর এক মুক্তমনা মানুষদের হত্যা করছে, আর পুলিশ বলছে দেখছি, তদন্ত চলছে, বিচার হবে। সন্ত্রাসীরা আইনের সর্বোচ্চ সীমা লঙ্ঘন করছে আর পুলিশ আইনের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে বলেন, মোদির সঙ্গে তিনি (খালেদা জিয়) দেখা করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ভালো কথা। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে প্রণব মুখার্জির সফরে তিনি সময় দিয়েও দেখা করেননি। হরতাল দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। জনগণের স্বার্থে রাজনীতি না করে শুধু নিজের বা দলের স্বার্থে রাজনীতি করলে জন-আস্থা মেলে না। ভারতের জনগণ থেকে খালেদা জিয়ার শিক্ষা নেয়া উচিত।
সংগঠনের উপদেষ্টা ড. এমদাদুল হক সেলিমের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক হারুণ চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু একাডেমির সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রনি, হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ।
বিএ/এমএস