‘আমরা স্বাধীনতার স্বপ্ন বিক্রি করে দিয়েছি’

আমানউল্লাহ আমান
আমানউল্লাহ আমান আমানউল্লাহ আমান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩২ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

আ স ম আবদুর রব। ছাত্র রাজনীতির পথ ধরে উঠে এসেছেন জাতীয় রাজনীতিতে। শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভুত্থানে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সশস্ত্র সংগ্রামের অন্যতম এ সংগঠক স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তুলে ধরেন স্বাধীনতা, স্বাধীনতা সংগ্রাম, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান। জাগো নিউজের পক্ষে আলাপচারিতায় অংশ নেন নিজস্ব প্রতিবেদক আমানউল্লাহ আমান।

জাগো নিউজ : বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার করলো, স্বাধীনতা বলতে আসলে কী বোঝানো হয়েছে?

আ স ম আবদুর রব : আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার কর্তৃক জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘সাম্য’, ‘মানবিক মর্যাদা’ ও ‘সামাজিক সুবিচার’ এ তিনটি আদর্শ ছিল স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার কাছে আমরা স্বাধীনতার স্বপ্ন বিক্রি করে দিয়েছি।

জাগো নিউজ : আপনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তখনকার অনুভূতির কথা জানতে চাই?

আ স ম আবদুর রব : স্বাধীন বাংলার পতাকা হচ্ছে রাষ্ট্রের অহংকার। সুতরাং পতাকা উত্তোলন সমগ্র জাতির আত্মদান-লড়াইয়ের পরিণতি। এ পতাকা উত্তোলনের অনুভূতি প্রকাশ করা দুরূহ।

জাগো নিউজ : স্বাধীনতা ধরে রাখতে শক্তিশালী প্রজন্ম তৈরি করতে পারছেন কি?

আ স ম আবদুর রব : সমস্ত সমাজে অপরাজনীতি বিস্তার লাভ করেছে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, আদর্শ কেন্দ্রিক লড়াই, গণতন্ত্র, সাম্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মাধ্যমেই প্রতিবাদী প্রজন্ম তৈরি হবে।

জাগো নিউজ : বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা কেমন বলে মনে করেন?

আ স ম আবদুর রব : রাজনীতি এখন অবরুদ্ধ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছে বন্দী, সমাজে যখন নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি, আরোপিত রাজনীতি চলতে থাকে তখন সে সমাজ ক্রমাগত অবনতির দিকে ধাবিত হয়। বর্তমান রাজনীতি জনগণকে অপ্রয়োজনীয় অপাংতেয় করে তুলছে, যার পরিণতি ভয়াবহ।

জাগো নিউজ : যে চেতনা বুকে ধারণ করে লড়াই করেছেন তার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে?

আ স ম আবদুর রব : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্ন ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষের রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত করে রাষ্ট্রকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হচ্ছে। রাষ্ট্র এখন নিজেই উৎপীড়ক, নির্মম-রক্তপিপাসু।

জাগো নিউজ : ‘স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস’ গঠনে আপনার অবদান কতটুকু ছিল?

আ স ম আবদুর রব : নিউক্লিয়াস গঠনের শুরুর দিকেই আমি সম্পৃক্ত হয়েছিলাম। পরবর্তীতে নিউক্লিয়াসের সিদ্ধান্তে বহু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেই বা পরিচালনা করি।

জাগো নিউজ : বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করছেন কী?

আ স ম আবদুর রব : বড় ধরনের গণবিস্ফোরণ, বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান বিদ্যমান অপরাজনীতির অপসারণ ঘটাতে পারে, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে। রাষ্ট্র ও সমাজ দেহে মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হতে পারে। এ লক্ষ্যে আমরা ১০ দফা উত্থাপন করেছি। শাসনতন্ত্র ও শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছি। আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় কাজ করে যাচ্ছি।

জাগো নিউজ : বর্তমান ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বলুন...

আ স ম আবদুর রব : বর্তমান ছাত্র রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

জাগো নিউজ : আগামীর বাংলাদেশ কেমন দেখে যেতে চান?

আ স ম আবদুর রব : শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক-মানবিক বাংলাদেশ দেখার স্বপ্নই লালন করছি চিরকাল।

এইউএ/এমএমজেড/আরএস/এমএস

রাজনীতি এখন অবরুদ্ধ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছে বন্দী, সমাজে যখন নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি, আরোপিত রাজনীতি চলতে থাকে তখন সে সমাজ ক্রমাগত অবনতির দিকে ধাবিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :