দেশ ও জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে প্রথম: তারেক রহমান
‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে প্রথম’—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেলে ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক বিদেশি সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের আল-জাজিরা, বিবিসি, এবিসিসহ চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। একে একে সবার প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে করা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা আমাদের ফরেন পলিসি ডিসাইড করবো।’
একই বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,‘বিএনপি অনুসরণ করে দি প্রিন্সিপাল অব মাল্টিলেটারিজম। উই ডোন্ট হ্যাভ এ্যানি কান্ট্রি সেন্ট্রিক পলিসি এজ সাচ। সো আওয়ার পলিসি এ্যাপলাইজড টু এনাদার কাউন্ট্রি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড…দিস ইজ ফর মিচ্যুয়াল রেসপেক্ট, মিচ্যুয়াল ইন্টারেস্ট, নান অফ ইন্টাফেয়ারেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অটোনোমি ফর বাংলাদেশ…এটা হচ্ছে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি।’
আইসিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা বিচার বিভাগের বিষয়। অফ কোর্স উই লুক টু জুডিশিয়ারি সেপারেট ফর্ম এক্সিকিউটিভ ফ্যাংশন অ্যান্ড ল্যাজিলেটিভ ফ্যাংশন।
জনগণকে কনভিন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং
গত সরকার চলে যাওয়ার পর থেকে আপনি বলে আসছেন যে এই নির্বাচনটা খুব সহজ হবে না। এখন নির্বাচনটা হয়ে গেলো… এটা আপনার কাছে সহজ ছিলো কিনা আপনার কাছে। আর ২০০ এর বেশি আসন পাওয়ার জন্য আপনাকে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হলো কিনা?—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করেন একজন সাংবাদিক।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিলো জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ এ্যানসিউর (নিশ্চিত) করাটাই ছিলো আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর। অর্থাৎ যেটা আমি বলেছিলাম কঠিন হবে কি না… যেকোনো ভালো কাজের গোল এচিভ করতে গেলে তো কষ্ট করতে হবে, কঠিন হবেই।’
ভারত-পাকিস্তান-চীনের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কী হবে?
ভারত-পাকিস্তান-চীনের সঙ্গে বিএনপি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, ‘আই অলরেডি অ্যানসার দিস। তারপরও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেবকে বলতে বলছি।’
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে ইতিমধ্যে আমি বলেছি। দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমাদের পলিসি হবে।
সরকারের অগ্রাধিকার চ্যালেঞ্জগুলো কি?
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো হচ্ছে—অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। অবশ্যই আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আপনি জানেন যে, গত রেজিম তারা দেশে সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করেছে। সেজন্য আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। এগুলো আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি এবং এগুলোকে উই নিড টু ট্যাকল।’
যুবকদের জন্য আপনার পরিকল্পনা কি
তারেক রহমান বলেন, আমরা জনগণের রায় পেয়েছি। অবশ্যই যুবকরা আছেন তবে সমাজের আরও শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন। আমরা সবকার বিষয়ে এড্রেস করব।
তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে আমাদের দলের ম্যানিফেস্টো (ইশতেহার) প্রকাশ করেছি। সেখানে সব বিষয়ে আমরা এড্রেস করেছি, যুবকদের জন্য কী করব, আমরা নারীদের জন্য কী করব, আমরা ডিজাইবেল পিপলসের জন্য কী করব সব কিছু সেখানে (ইশতেহারে) আছে।
সার্ক সক্রিয়করণ ও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি কি করবে
দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা ফোরাম (সার্ক) সক্রিয়করণ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিএনপি কি করবে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ইয়েস আপনি জানেন, সার্ক গঠন হয়েছিলো বাংলাদেশের উদ্যোগে। স্বাভাবিকভাবে আমরা সার্ক সক্রিয় করতে চাই। এই বিষয়ে আমরা আলাপ করব। তিনি বলেন, আপনারা দ্বিতীয় প্রশ্ন এটা ডিপেন্ড অন দা লিগ্যাল প্রসেস অফ কোর্স।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ডেফিনেটলি উই উইল ট্রাই টু প্রটেক্ট ইন্টারেস্ট অব পিপল অব বাংলাদেশ, আমাদের দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ব। আই অ্যাম সিউর মিচ্যুয়াল ইন্টারেস্ট ইজ দি ফাস্ট প্রাইয়োরিটি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চাইনিজ বন্ধুরা আছেন। আমরা আশা করি, দুই দেশ সামনের দিনগুলো আরও নিবিড়ভাবে একসঙ্গে কাজ করবে।
দেশের অর্থনীতি সচল কিভাবে
দেশের অর্থনীতি সচল করতে বিএনপি সরকার কি পদক্ষেপ নেবে—এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, টু ব্রিং মোর বিজনেসেস অ্যান্ড ক্রিয়েট মোর জবস।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুর্নীতি রোধে ভাবনা
তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন আপনি বোধহয় আইনশৃঙ্খলার কথা বলতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি যে, আইন সবার জন্য সমান।
তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পরে আমরা চেষ্টা করব, আইন যাতে আইনের মতো করে চলে। সেটাই আমাদের পজিশন।
আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কি হবে-জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘বাই অ্যানসিউরিং রুল অব ল।’
বিগত সরকারের সময়ের লুটপাট ও পাচার করা অর্থ ফেরাতে পরিকল্পনা
তারেক রহমান বলেন, ‘আপনি যদি আমাদের ইশতেহার দেখেন, সেখানে আপনার এই প্রশ্নের জবাবগুলো আপনি সুন্দরভাবে পাবেন। আমি ইশতেহারে বলেছি যে, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি। অর্থাৎ আমরা এমন একটা অর্থনীতি সূচনা করতে চাই যেখানে সবাই সবার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন। কোনো বিশেষ মহলকে আমরা সুযোগ দিতে চাই না
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মঞ্চে তারেক রহমানের পাশে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তারেক রহমান তার দলকে সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
কেএইচ/এমএমকে