বি. চৌধুরীর বারিধারায়, কামালের সংবাদ সম্মেলন প্রেস ক্লাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ দুই নেতা অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন পৃথক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।

শনিবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় পৃথকভাবে এ সংবাদ সম্মেলন হবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যের ঘোষণা দেবেন ড. কামাল হোসেন।

অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বারিধারার ১২ নম্বর রোড, ১৯ নম্বর বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করবেন বি. চৌধুরী।

এর আগে শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় যান বি. চৌধুরী। ড. কামাল হোসেন ওই সময় বাসায় ছিলেন না। বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব ড. কামাল হোসেন তাকে দাওয়াত করেন। কিন্তু তারা গেলেও ড. কামালের বাড়ির দরজা খোলা হয়নি।

পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাহী বি. চৌধুরী এ ঘটনাকে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, এবার পরিষ্কার হয়ে গেলো কারা জাতীয় ঐক্য চায় না।

ঐক্য প্রক্রিয়ার বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর থেকেই ড. কামাল হোসেন তার মতিঝিলের চেম্বারে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন ঐক্যপ্রত্যাশী নেতার সঙ্গে।

kamal

গণফোরামের গণমাধ্যমবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক জানান, সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা হবে 'জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে'র ব্যানারে। এর আগে বিকেল ৫টায় রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত নেতাদের ও বিএনপি নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কথা ছিলে বৈঠকের পরই ঘোষণা হবে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

কিন্তু এরই মধ্যে রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নেতারা বৈঠক করেন। সেখানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছিলেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তিনি কামাল হোসেনের চেম্বার থেকে বের হয়ে যান। এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি। ড. কামাল হোসেনের চেম্বার থেকে বেরিয়ে তিনি পাশেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের চেম্বারে যান। পরে আবার ৪টার দিকে ড. কামালের চেম্বারে প্রবেশ করেন।

দুপুরের ওই বৈঠকে ছিলেন না যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর মান্না।

এদিকে বিকেলে পৌনে ৪টার দিকে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ড. কামাল হোসেনের বাসায় গিয়ে ফিরে যান। বিকেল ৪টার দিকে মতিঝিলের ড. কামালের চেম্বারে আসেন মাহমুদুর রহমান মান্না।

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি তাদের ৫ দফা দাবি ও ৯ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল।

দাবিগুলো হলো :

১. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ সুবিধা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না।

২. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

kamal

৩. কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা যাবে না।

৪. নির্বাচনের এক মাস আগে থেকে নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।

৫. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর যুগোপযোগী সংশোধন করতে হবে।

জাতীয় ঐক্য ৯টি লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে, এই লক্ষ্যে তা বলা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো :

১. বাংলাদেশে স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে পরিত্রাণ এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের লক্ষ্যে সংসদ, সরকার, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, ন্যায়পাল নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও সৎ যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিশন গঠন করা।

২. দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন ও দুর্নীতির দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা।

৩. বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুব সমাজের সৃজনশীলতা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা।

kamal

৪. কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা।

৫. জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত করা।

৬. বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা আনা, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

৭. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা।

৮. ‘সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এই নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। এর নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। প্রতিবেশী দেশগুলো সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া।

৯. বিশ্বের সব প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।

এইউএ/এএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :