সিইসির ‘রিপ্লেস’ চাইলেন ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৮

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাকে রিপ্লেস বা বদলির দাবি জানালেন গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

ড. কামাল বলেন, ‘সম্প্রতি তিনি (সিইসি) বলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার নির্দেশেই কাজ করছে। তাহলে নিশ্চয়ই তার নির্দেশেই নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমি জানতে চাই, এমনটা তিনি কেন করছেন?’

তিনি বলেন, ‘সিইসির ওপর প্রথম থেকেই আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। তার পরিবর্তে একজন বিশ্বাসযোগ্য লোককে আনতে হবে। উনি বয়স্ক লোক, সিনিয়র অফিসার ছিলেন। আমি উনাকে আবারও বলছি, এখনো সময় আছে, এতদিন যা করেছেন করেছেন, এখন থেকে পরিবর্তন হন। তা না হলে তার রিপ্লেস করা হোক। আমরা উনার রিমুভ (সরিয়ে দেয়া) চাইনা। উনার রিপ্লেস (বদলি) চাই।’

ড. কামাল বলেন, `আমরা একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষা করছি। জনগণ দেশের মালিক। ভোটে তাদের নেতা নির্বাচনের সুযোগ দেয়া উচিত। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় বর্তমান ধরপাকড়। এখনই পাইকারি হারে গ্রেফতার বন্ধ হওয়া দরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত ধরপাকড় না করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো সরকারের বাহিনী না, তারা রাষ্ট্রের বাহিনী সবার বাহিনী।’

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ ইভিএমের ব্যবহার বাতিল করেছে৷ এটা নির্ভরযোগ্য না। এটাতে বিশেষ কায়দা করলে এক জায়গায় ভোট অন্যজনের ওপর পড়তে পারে, চেকও করা যায় না। এটা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।’

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি দলের প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণার বিষয়ে বক্তব্য দেন গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে পরিস্থিতি সৃষ্টির কথা ছিল, নির্বাচন কমিশন তা করতে পারেনি। গণভবন, মন্ত্রীদের বাসা ও সরকারি অফিস সরকার দলীয়রা রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ১৪/১,১৪/২ এর লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশনের এতে কোনো ভূমিকা নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন হাজার হাজার লোককে গ্রেফতার করছে, মামলা দিচ্ছে। গ্রেফতাররা যাতে জামিন না পায় সেজন্য বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে। সরকার দলীয়রা পুলিশ প্রোটকল নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। অথচ বিরোধীরা প্রচারণা চালালে, ঘরোয়া বৈঠক করলে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’

গত ১৩ অক্টোবর বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে আরও চারটি দলের সমন্বয়ে কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ঘোষণা দেন। এ ফ্রন্টে বিএনপি ছাড়া অন্য চারটি দল হচ্ছে. জেএসডি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। পরে এ ফ্রন্টে যুক্ত হয় কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

বিএনপি ইতোমধ্যে ৩০০ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষ করেছে।

দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে তারা বৈঠক করে আসন বণ্টনের বিষয়টি ফয়সালা করবেন।

পুনঃতফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর।

এআর/এনডিএস/জেআইএম