ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে যে বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে

আদনান রহমান
আদনান রহমান আদনান রহমান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৪ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
ফাইল ছবি

নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের দাম অর্ধেক কমিয়ে আনা এবং আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পূর্ণভাবে বাতিলের ঘোষণা থাকছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে।

আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টায় মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণীতে ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।

সূত্র জানায়, ইশতেহারে বর্তমান সরকারের আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইশতেহারে সাংবাদিকদের জন্য অবাধ স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম নীতি নিশ্চিত করতে এই আইন বাতিল করার কথা থাকছে। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশনে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হবে।

এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় যাওয়ার প্রথম বছরের মধ্যে ৫ লাখ যুবকের চাকরির ব্যবস্থা করবে। এছাড়াও শিক্ষিত যুবকদের অফিসে ও অশিক্ষিতদের দক্ষতা পরীক্ষা করে ভাষা ট্রেনিং, শর্ট কোর্স দিয়ে চাকরির জন্য প্রস্তুত করা হবে।

ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হবে, কৃষকের ন্যায্য মূল্যে নিশ্চিত করতে সাপ্লাই চেইনে যেন মধ্যস্বত্বভোগী না থাকে সেই ব্যবস্থা করা হবে। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনার ব্যবস্থা করা হবে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোর টিকিট ক্রয়ে সিনিয়র সিটিজেনরা (বয়স্ক) ৫০ শতাংশ ছাড় পাবেন। ক্ষমতায় আসার ৩ মাসের মধ্যে ওষুধের দাম অর্ধেকে নামিয়ে নিয়ে আনা হবে।

সরকার দলীয় কর্মীদের দ্বারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের অত্যাচারিত হওয়ার বিষয়ে ইশতেহারে উল্লেখ করা হবে, ‘যারা আমাদের অত্যাচার করেছে তাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে, তাদের বিচার আইন অনুযায়ী হবে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয়া হবে না, প্রতিহিংসা পরায়ণ হবে না। কেউ বিচারে হস্তক্ষেপ করবে না।

মসজিদ-মাদরাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর কোনো সরকারি অনুদান থাকবে না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এলাকাভিত্তিক অর্থ সংগ্রহ করবে। এছাড়াও পরিবারে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েরা অর্ধেক-অর্ধেক সম্পত্তি পাবে। পরিবারে মেয়ে থাকলে সম্পত্তি চাচাতো ভাইয়েরা পেতো, এই রীতি বাদ দেয়া হবে। মেয়ে থাকলে মেয়েই সম্পত্তি পাবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর ড. মেহেদী মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, ইশতেহারে ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী কী কী উন্নয়ন করবে তা উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষমতায় গেলে অল্প সময়ের মধ্যে ওষুধের দাম কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিলুপ্তিসহ নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের এই ইশতেহার প্রস্তুতে ৬ সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটিতে বিএনপি থেকে মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরামের আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন।

চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর বিএনপিসহ কয়েকটি দল নিয়ে গঠিত হয় ঐক্যফ্রন্ট। দলটি প্রথম দফায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এবং ডিসেম্বরের ৮ তারিখে ইশতেহার ঘোষণার কথা বললেও পরে তা করেনি।

এআর/জেএইচ/এমএস