পাড়ায় পাড়ায় চষে বেড়াচ্ছে ছাত্রলীগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণায় ব্যস্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীদের বিজয়ী করতে প্রচারণায় সরব সংগঠনটির প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী। যাদের অধিকাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলমান রাখতে ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে যাচ্ছেন এবং ভোট চাচ্ছেন নৌকার পক্ষে।

গত ৩ ডিসেম্বর বিভাগভিত্তিক দুই সদস্যবিশিষ্ট ‘বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয়ক কমিটি’ গঠন করে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কমিটি করা হয়। যারা স্ব স্ব বিভাগের অধীনে থাকা নির্বাচনী আসনে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা, পর্যবেক্ষণ ও প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। এরপর প্রতীক বরাদ্দের পর ১১ ডিসেম্বর বিভাগীয় সমন্বয়ক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আসনভিত্তিক সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। প্রতি আসনে একজনকে সমন্বয়ক করে পাঁচ থেকে দশজনকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

golam-Rabbani

আসনভিত্তিক কমিটি নিজ নিজ আসনের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় চষে বেড়াচ্ছেন। পৌঁছে দিচ্ছেন শেখ হাসিনার নির্বাচনী বার্তা। তুলে ধরছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিসমূহ। গত দশ বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলমান রাখতে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাচ্ছেন।

‘বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয়ক কমিটি’র দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গত কমিটির (সোহাগ-জাকির) কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সাদ বিন কাদের (সাদী) জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে কয়টা উন্নয়নের মেঘা প্রজেক্ট চালু করছে সে উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখতে এবং আগুন-সন্ত্রাস যারা করেছে তাদের বর্জন করে নৌকার পক্ষে থাকার জন্য ভোটারদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে ভোটারদের মাঝে। তারা ৩০ ডিসেম্বর নৌকার পক্ষে রায় দেয়ার অপেক্ষায় আছে।’

golam-Rabbani-1

এদিকে নৌকার পাশাপাশি মহাজোটের অন্য শরিকদের প্রতীক নিয়েও কাজ করছে ছাত্রলীগ। অন্য প্রতীকে যারা নির্বাচন করছে তাদেরও শেখ হাসিনার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি ভোটারদের কাছে। তবে বিষয়টি একটু জটিলই। কারণ এমন এমন এলাকা রয়েছে যেখানে নৌকা আর ধানের শীষের বাইরে প্রতীকের প্রতি ভোটারদের তেমন আগ্রহ নেই। ফেনী-০৩ (দাগনভূঁঞা-সোনাগাজী) আসনে এবার মহাজোটের হয়ে লড়াই করছে জাতীয় পার্টির জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

তবে বিএনপি অধ্যুষিত এ এলাকায় লাঙ্গলের সমর্থন যথেষ্ট কম। নির্বাচনী মাঠে এর প্রভাব পড়ছে কিনা জানতে চাইলে এ আসনের দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগের নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয়ক কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গত কমিটির (সোহাগ-জাকির) সদস্য ফখরুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘লাঙ্গল আওয়ামী লীগের শরিক দলের প্রতীক। আমরা ভোটারদের কাছে এ বিষয়টি পরিষ্কার করছি। ভোটাররাও এ আসনে নৌকার পরিবর্তে লাঙ্গলকে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়েছে। শেখ হাসিনা আমাদের আসনে তার প্রতিনিধিকে লাঙ্গল দিয়ে পাঠিয়েছেন। তাই এখানকার সব নেতাকর্মী লাঙ্গলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। আমরা আশা করছি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এ আসনে নৌকা প্রতীক না থাকায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। এখানকার মানুষ লাঙ্গলের পক্ষে তাদের রায় দেবে।’

golam-Rabbani-3

নির্বাচনী সমন্বয়ক কমিটির বাইরেও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে নৌকার পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। বৃহস্পতিবারও নড়াইলে মাশরাফির নির্বাচনী এলাকায় নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এমএইচ/জেএইচ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।