রাষ্ট্রপতির ভাষণে বাধা দেওয়ার আহ্বান আসিফ মাহমুদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৭ পিএম, ১২ মার্চ ২০২৬
বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অবস্থান কর্মসূচিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঠেকাতে এবং তার অভিশংসনের দাবি তুলতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ আহ্বান জানান। গণভোট অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দাবিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবার’ ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সময় সংসদে কারা উপস্থিত থাকবেন এবং সেই বক্তব্য শুনবেন—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার মতে, এখান থেকেই স্পষ্ট হবে দেশে কারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে এবং কারা এর বিপক্ষে অবস্থান করছেন।
 
তিনি বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, তাদের উচিত রাষ্ট্রপতিকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া এবং অভিশংসনের দাবি উত্থাপন করা।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে এবং জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী তাদের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, তাদের এক দফা আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনার পতন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান। শেখ হাসিনার পতন ঘটলেও সেই ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলোপ এখনো সম্ভব হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম থেকে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠলেও সংবিধানের অজুহাত এবং সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতার কথা বলে বিএনপি তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি।

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন নিয়ে এখন আর কোনো সাংবিধানিক জটিলতা নেই। তার মতে, বর্তমান সংসদের আইনগত ক্ষমতা রয়েছে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করার।
 
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের শেষ প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা প্রয়োজন। এসময় সংসদের অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

এসময় নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল- ‘রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হবে’, ‘জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে’, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে গণভোট অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে’, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন চাই’ ইত্যাদি।
 
ইএআর/এমকেআর 
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।