উন্নয়ন আর শিখরের ব্যক্তিত্বেই আস্থা নৌকায়

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৪ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮

স্বল্পভাষী। তবে সদালাপী। শত ব্যস্ততার মধ্যেও ধৈর্য নিয়ে মানুষের ‘প্রয়োজনীয়’কথা শোনেন। যে প্রান্ত থেকেই বিপদগ্রস্ত মানুষ এসেছেন, সাধ্য মতো সহযোগিতা করেছেন। টানা দশ বছর প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সচিব থাকার পরও দাম্ভিকতার লেশমাত্র প্রকাশ পায়নি তার আচরণে। নির্মোহ, নির্ভোল আর অমায়িক ব্যক্তিত্বের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও আস্থাভাজন বনে গেছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ হিসেবে এবারে নৌকার প্রার্থীও হলেন।

বলছিলাম, সাইফুজ্জামান শিখরের কথা। মাগুরা-১ (সদর ও শ্রীপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন তিনি। নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের এ তরুণ নেতা স্থানীয় রাজনীতির শীর্ষে অবস্থান করছেন। শিখরকে প্রার্থী পেয়ে দলীয় কোন্দল ভুলে গেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। শিখরের নৌকায় ভিড়ছেন অন্যদলের ভোটাররাও। উন্নয়নে বিশ্বাসী যারা, তারা শিখরকেই সমর্থন দিচ্ছেন। মহাজোটের শরিক নেতারাও মিলে মিশে একাকার নৌকা প্রতীকে।

ধারণা করা হচ্ছে, মাগুরা-১ আসনে বিপুল ভোটে নৌকার জয় হবে। শুরু থেকেই নির্বাচনী আয়োজনে এগিয়ে ছিলেন শিখর। দিন যাচ্ছে, জনপ্রিয়তা বাড়ছে এ প্রার্থীর। তার জয় যেন এখন সময়ের ব্যাপার।

মাগুরা-১ আসনের নির্বাচনী হালচাল নিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা আরাফাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শিখর নৌকার প্রার্থী হওয়ার পর এখানকার আওয়ামী লীগ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, তা অন্য কেউ হলে সম্ভব হতো না। মহাজোটের সবাই নৌকার হয়ে কাজ করছেন। আর বিএনপির যে প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন, তিনি বিশেষ অবস্থান দাঁড় করাতে পারেননি। বিএনপির প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এখন কারাগারে আছেন। বিএনপির নেতাকর্মী মাঠে নামতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। আর নামলেও শিখরের জনপ্রিয়তার কাছে বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। একই অবস্থা বাকি পাঁচ প্রার্থীর ক্ষেত্রেও।’

বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের মাগুরা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল বিশ্বাস জানান, শিখর ভাই দীর্ঘদিন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তিনি নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে সর্বসময় পাশে থাকেন। এলাকার উন্নয়নে তার বিশেষ ভূমিকা আছে। এ জন্য দলমত নির্বিশেষে সভায় শিখর ভাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ আসনে বিপুল ভোটে নৌকার জয় হবে।’

রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়া শিখরের বাবা আসাদুজ্জামানও সফল সংসদ সদস্য ছিলেন মাগুরার। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকও ছিলেন। বাবার দীক্ষা পেয়ে ছাত্রজীবন থেকে সাইফুজ্জামান শিখর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

shakhor-2

বিরোধী দলের নেত্রী থাকার সময় শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেও কাজ করেন সাবেক এ ছাত্র নেতা। এরপর ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্বে নিয়োজিত হন। এ সময়ে এলাকার সঙ্গেও জনসম্পৃক্ততা গড়ে তোলেন শিখর। সংসদ সদস্য না হয়েও এলাকার উন্নয়নে এবং বেকার সমস্যা দূরীকরণে বিশেষ অবদান রাখেন তিনি। এমনকি দেশের অন্য প্রান্তের মানুষেরা তার বিশেষ আনুকূল্য পেয়েছেন এ সময়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে বিশেষ অবস্থান দাঁড় করিয়ে সমগ্র বাংলাদেশে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের কাছেও সমান জনপ্রিয় তিনি।

সাবেক এ ছাত্রনেতার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গত দু’মাস মালয়েশিয়া ছেড়ে মাগুরা সদর ও শ্রীপুর চষে বেড়াচ্ছেন মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এম রেজাউল করিম রেজা। তিনি এ আসনে নৌকার প্রার্থী শিখরের বিজয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাগুরা সদর ও শ্রীপুরের উন্নয়নের রূপকার সাইফুজ্জামান শিখর। এলাকার গর্বিত সন্তান হিসেবে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এ কারণে তার জনপ্রিয়তাও ঈর্ষণীয়। নির্বাচনে তার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। এ জোয়ার ঠেকানোর শক্তি কারও নেই।’

shakhor

শিখরের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, ‘মাগুরা-১ আসনে নৌকাকে বিজয়ী করতে এখানকার মানুষ সব দ্বিধা ভুলে গেছেন। শিখর ভাইয়ের ব্যক্তিত্বই মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে এবং আমরা সেটা প্রচারণায় অংশ নিয়ে প্রমাণ পেয়েছি।’

নৌকায় ভোট দিতে মানুষ অধীর অপেক্ষায় আছে উল্লেখ করে নৌকার প্রার্থী সাইফুজ্জামান শিখর বলেন, ‘এ আসনে অন্য দলের প্রার্থীরাও প্রচারণা করতে পারছেন সুষ্ঠুভাবে। আমরা চাই প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে নৌকার বিজয় হোক। আমরা কোনো দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখে নির্বাচনে বিজয়ী হতে চাই না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটে নৌকার বিজয় হবেই।’

তিনি বলেন, ‘মাগুরার মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাসী। গত দশ বছরে মাগুরায় যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তাতে সরকারের প্রতি আস্থা বহুগুণ বেড়েছে। আর এ আস্থার প্রশ্নেই ভোটারদের মন জয় করতে পেরেছি বলে বিশ্বাস করি।’

এএসএস/এনডিএস/পিআর