তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতিতে, এবার এমপি হতে চান অঞ্জলী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯

নৌকার পক্ষে প্রচার চালাতে ঋণ করে দুটি ক্লাব তৈরি করেন তিনি। ২০০১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে ক্লাব থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে মিছিল বের হয়। মিছিল করায় ওইদিন রাতেই তার বাড়িতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বাঁচলেও এক কর্মী নিহত, একজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হন বেশ কয়েকজন। বোমা ফাটে, লুটপাট হয় তার বাড়ি।

বলছিলাম আওয়ামী লীগের তৃণমূলের রাজনীতি ও দলের জন্য বিভিন্ন সময় ত্যাগ স্বীকার করা ভোলার দৌলতখান থানার লেজপাতা গ্রামের রাজনীতিক অঞ্জু রানী অঞ্জলীর কথা। দীর্ঘদিন স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে রাজনীতি, এরপর দৌলতখান থানা মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদিকা হন তিনি। সম্পাদিকার পাশাপাশি অঞ্জলী এক বছরের বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা পরিষদের তথ্য বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করছেন।

তৃণমূল থেকে ওঠে আসা এ রাজনীতিক এবার জাতীয় সংসদে (একাদশ) প্রতিনিধিত্ব করতে চান। সে জন্য একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সংরক্ষিত ভোলা-১৫ আসনের এই প্রার্থী গত ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

তিন যুগের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা অঞ্জলী গানও করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের এ শিল্পী বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও গান লিখেছেন, সুর করেছেন। সম্প্রতি জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক প্রদীপ দাসের সাথে কথা বলেন তিনি। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ের ত্যাগ স্বীকার ও তার স্বপ্নের কথা জানান।

জাগো নিউজ : আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন কীভাবে?
অঞ্জলী : ১৯৯১ সালে উপ-নির্বাচনে আমার শ্বশুর সচ্চিদানন্দ মেম্বার (ডাক্তার) আওয়ামী লীগের প্রচার কাজে যুক্ত হন। এর জেরে বিএনপির ক্যাডাররা আমার শ্বশুরকে হত্যা করে। মৃত শ্বশুরকে দেখতে আসেন আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল আহমেদ। আমার পরিচয় হয় তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে। শ্বশুরের ত্যাগ আর তোফায়েল আহমেদের অনুপ্রেরণায় আমি পরিপূর্ণভাবে রাজনীতি শুরু করি। পরের বছরই (১৯৯২ সাল) আমাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

জাগো নিউজ : ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনার শ্বশুর বাড়িতে তো ক্যাম্প ছিল...
অঞ্জলী : স্মরণ করার মতো অনেক কথাই আছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার শ্বশুর বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্প করা হয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালে পাক সেনারা আমার দাদা শ্বশুরকে ধরে নিয়ে যায়...। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে আমাদের বাড়িতে লুট করা হয়। শন্ত্রাসীরা আমার শাশুড়ির কোমর ভেঙে দেয়। তিনি আজও সেই কোমর নিয়েই চলছেন।

জাগো নিউজ : তৃণমূলে আপনার রাজনীতিক জীবনটা কেমন ছিল?
অঞ্জলী : তৃণমূলে রাজনীতি করতে গিয়ে আমি সাধারণ মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছি। এটা বুঝতে পেরেছি যে, সাধারণ মানুষকে ভালোবাসলে তারাও মনপ্রাণ উজার করে ভালোবাসতে জানেন। সেটার প্রমাণও পেয়েছিলাম ১৯৯৭ সালে। পরিবার পরিকল্পনার স্বাস্থকর্মীর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করি। জনগণ আমাকে ঠকায়নি। আমি বিপুল ভোটে জয়ী হই। উন্নয়নমূলক কাজ করে আমিও তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করেছি। সেই সাহস নিয়েই এখনও চলছি।

southeast

জাগো নিউজ : রাজনীতি করতে গিয়ে আপনি কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন?
অঞ্জলী : ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে সক্রিয় ছিলাম। ২২ সেপ্টেম্বর আমার নেতৃত্বে মিছিলও বেরিয়েছিল। ওই মিছিল করার জন্য রাতেই আমার বাড়িতে বিএনপি-জামায়াত হামলা চালায়। একজন মারা যায়, অনেকে আহত হয়। হামলার শিকার কয়েকজন এখনও পঙ্গু হয়ে জীবনযাপন করছেন। বিএনপি ক্ষমতা এসে আমাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকতা থেকে চাকরিচ্যুত করে। আমার স্বামী নিখিল চন্দ্র হাওলাদার সোনালী ব্যাংকে চাকরি করতেন। তাকে বদলি করা হয়। আমাদের জমিজমা দখল হয়ে যায়। নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়, আমার নামে মিথ্যা প্রচারণাও চালানো হয়।

তারপরও ২০০৭ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচার শুরু করি। এ জন্য তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিভিন্ন নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে।

জাগো নিউজ : তারপরও আপনি এখনও তো রাজনীতিতে আছেন...
অঞ্জলী : আসলে আমার শ্বশুরকে কখনো হাল ছাড়তে দেখিনি। জাতির জনকও কখনও হাল ছাড়তেন না। আমার প্রিয় এই দুটি মানুষেরই স্বপ্ন ছিল, সাধারণ মানুষের দুঃখ ঘোচাবেন। ইউপি নির্বাচনে দেখেছি, আমার প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। এই সাধারণ মানুষের জন্য যদি বড় পরিসরে কিছু করতে পারি, তাই তো সাংসদ হওয়ার জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছি।

জাগো নিউজ : আপনি কতটা আশাবাদী, আওয়ামী লীগ আপনাকে মনোনয়ন দেবে...
অঞ্জলী : জননেত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন। তাছাড়া তিন যুগের বেশি সময় ধরে দলের জন্য তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কাজ করে আসছি। মনোনয়ন তো আশা করতেই পারি, তাই না?

পিডি/আরএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :