জনকল্যাণে বাজেট প্রণয়নের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৩ এএম, ১৪ জুন ২০১৯

গতানুগতিক, ঋণ নির্ভর, প্রদর্শনবাদী কালো অর্থনীতির বাজেট বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা খালেকুজ্জামান বিবৃতিতে এমন অভিযোগ করেন।

একই সঙ্গে বাজেটের প্রতিক্রিয়া ও জনকল্যাণে বাজেট প্রণয়নের দাবিতে বাসদের উদ্যোগে ১৪ জুন বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এবং শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধরনের ছাড় দেয়া ও নানা সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বাজেট ঘাটতিকে বাড়িয়ে চলছে। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে যে যত বেশি আয় ও মুনাফা করে তার ততো বেশি কর দিতে হয় কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো নীতি, যার আয় ও মুনাফা বেশি সে তত কর ছাড় পায়।

তিনি বলেন, গত ১০ বছরে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা এ বাজেটে নেই। দেশের ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করা ও পুঁজিবাজার রক্ষা করার কথাও নেই। ব্যাংক ঋণ বা বিভিন্ন প্রণোদনা নিয়ে শিল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে না। গত ৬ বছরে শিল্প কারখানা গড়েনি বরং বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা কমেছে।

তিনি বলেন, গত ১০ বছরে বাজেট বাস্তবায়ন ৮৯.৯% থেকে কমে ৭৬.১% গিয়ে দাঁড়িয়েছে। খালেকুজ্জামান বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে আমলাতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছেন। প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাজেটে অনুৎপাদনশীল খাতে, আমলাদের বেতন-ভাতা, সুদ পরিশোধ, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র খাতে মোট বাজেটের প্রায় ৪১% টাকা বরাদ্দ করেছে বিপরীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় সরকারসহ উৎপাদনশীল ও জনকল্যাণ খাতে বরাদ্দ বাড়েনি।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র খাতে বরাদ্দের তুলনায় বেশি খরচ করলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পুরো অর্থ খরচ করতে পারেনি।

খালেকুজ্জামান আরও বলেন, উন্নয়ন বাজেটে যে টাকা ধরা হয়েছে তার বেশির ভাগ টাকা তো দেশি-বিদেশি ঋণ নির্ভর। এই ঋণ নির্ভর ও ঘাটতি বাজেট দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগুনো যাবে না বলে তিনি জানান।

ধনী-গরিব বৈষম্য বৃদ্ধি, আমলাতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক ও অনুৎপাদনশীলতামুখী বাজেটকে প্রত্যাখান করে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় শোষণমুক্ত সাম্য সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনগণের কল্যাণে বাজেট প্রণয়নের সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এইউএ/এমআরএম

আপনার মতামত লিখুন :