ফারাক্কার ক্ষতি থেকে ভারতও মুক্ত নয় : মোস্তফা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ১৬ মে ২০২০
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের পানির অধিকার নিয়ে বিগত পাঁচ দশকে ফারাক্কা নিয়ে ভারতের অনড় অবস্থানে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। তবে ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং হচ্ছে ভারতও এখন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে খুব সম্প্রতি ভারতেও ফারাক্কার বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ও জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন আহ্বায়ক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

শনিবার (১৬ মে) ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৪৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার তো ফারাক্কা ব্যারাজ ভেঙে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছেন। মেধা পাটকরের মতো অ্যাক্টিভিস্টসহ বিশেষজ্ঞও মনে করছেন ভারতেও ফারাক্কা এখন সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি ঘটাচ্ছে। ফারাক্কার মারাত্মক বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশে যেমন পড়ছে তেমন ভারতেও নানা ধরনের বিপদ ডেকে এনেছে। বিহারের প্রতি বছরের ভয়াবহ বন্যার জন্য ফারাক্কাকেই দায়ী করা হয়। যে কলকাতা বন্দরের নাব্য ঠিক রাখতে এই ফারাক্কা নির্মাণ, সেটাও আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে। তাই ভারতীয় বিশেজ্ঞরাও মনে করছেন ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব খুবই ধ্বংসাত্মক, ফলে এই বাঁধ ভেঙে ফেলা উচিত।

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, মওলানা ভাসানীর আগে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা কোনো পরিবেশ বিজ্ঞানী আমাদের জাতীয় জীবনে ফারাক্কা বাঁধের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ সম্পর্কে আলোকপাত করেননি। মজলুম জননেতার ফারাক্কা লংমার্চের ৪৪ বছর পরও আমাদের শাসকগোষ্ঠী ফারাক্কা সমস্যা সমাধান ও পানির অধিকার আদায় করতে পারেনি। জাতীয় জীবনে এমন একটা সংকট, এত বড় অন্যায় আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ চোখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই অধিকার আদায় করতে হয়, সে পথ আমাদের দেখিয়ে গেছেন চিরপ্রতিবাদী মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী। পানি নিয়ে ভারত যে বাংলাদেশের সঙ্গে খেলছে সে বিষয়ে বিশ্ব বিবেককে সজাগ করেছিলেন তিনি।

কেএইচ/এনএফ/জেআইএম