জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থায়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আহ্বানে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতদের জন্য বিশেষ বৈশ্বিক উদ্যোগের বিষয়টি তুলে ধরতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) ‘জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সম্মেলন: নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সেমিনার থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

যৌথভাবে এর আয়োজন করে কোস্ট ফাউন্ডেশন, স্থায়িত্বশীল পল্লী জীবন-জীবিকার জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল), ক্লিন-বিডি, বিআইপিএনইটি-সিসিবিডি এবং সিপিআরডি।

পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ।

ডা. কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, ক্লাইমেট ভালনারেবল নেশন ফোরাম (সিভিএফের) চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ আসন্ন এই শীর্ষ সম্মেলনে তার জলবায়ু বিপদাপন্নতার বিষয়গুলো তুলে ধরবে। এছাড়াও অতিবিপদাপন্ন দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে জিসিএফের দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে অভিযোজনের জন্য অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তার দাবি জানাতে হবে।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি বহুপাক্ষিক উদ্যোগ নেয়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই জো বাইডেন এই শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বড় কার্বন নির্গমনকারীদের জন্য আমাদের ১.৫ ডিগ্রি সীমা বেঁধে দিতে হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় কোস্টের সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, জলবায়ু পরির্বতন মোকাবিলার আন্দোলনে বৈশ্বিক নেতৃত্ব নিতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে এক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে, যেমন-গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন কমানো, সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অভিযোজন ও প্রশমন কর্মসূচিতে অর্থায়ন করতে হবে।

তিনি মূল প্রবন্ধে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কার্বন নিঃসরণ মাত্রা ২০১০ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্য শতাংশ হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে ৩ বিলয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ বিপদাপন্ন দেশগুলোর অভিযোজন এবং প্রশমনের সহায়তার জন্য মেধাস্বত্ব শিথিল করতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক এমেরিটাস ডা. আইনুন নিশাত বলেন, প্যারিস চুক্তির আওতায় বাজার ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ হয়ত লাভবান হবে না। বরং অর্থায়ন এবং জলবায়ু অভিবাসনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন
গাইবান্ধা ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের
সাবেক অতিরিক্ত সচিব ডা. মনজুরুল হান্নান খান প্রমুখ।

এসএম/এসএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]