কুয়ালালামপুরে ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ৮০ দলিল গৃহীত
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট আসিয়ানের ৪৭তম শীর্ষ সম্মেলনে মোট ৮০টি ফলপ্রসূ দলিল গৃহীত হয়েছে। গত ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আসিয়ান নেতারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে পর্যালোচনামূলক আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র প্রেস সেক্রেটারি তেংকু নাসরুল আবাইদাহ জানান, গৃহীত দলিলগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আসিয়ান নেতাদের যৌথ বিবৃতি ও চুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব ফলাফল এসেছে আসিয়ান প্লাস থ্রি সম্মেলন, ইস্ট এশিয়া সামিট, এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি লিডারস মিটিং এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ সম্মেলন থেকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে।
তেংকু নাসরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দলিল মালয়েশিয়ার আঞ্চলিক বিরোধ ও সংকটগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনামুখী ভূমিকা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রচেষ্টার জন্য মালয়েশিয়া কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্মেলনে দুটি বড় বাণিজ্য উদ্যোগ চূড়ান্ত করা হয়— উন্নত আসিয়ান ট্রেড ইন গুডস অ্যাগ্রিমেন্ট, আসিয়ান-চীন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ৩.০। এই দুটি উদ্যোগ আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবাহকে নতুন মাত্রা দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর, তিমুর লেস্তে আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ানের পূর্ণ সদস্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ২০১১ সালে তাদের আবেদন জমা পড়ার পর থেকে এটি ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি মাইলফলক।
সম্মেলনের আরেকটি ঐতিহাসিক সাফল্য হলো ‘কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি’, যা স্বাক্ষর করেছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সাক্ষী ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আসিয়ান নেতারা মিয়ানমারের চলমান সংকট সমাধানে পাঁচ দফা ঐকমত্য পুনরায় জোর দিয়ে উল্লেখ করেন। তারা সহিংসতা বন্ধ ও মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান জানান, যেন মিয়ানমারে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হতে পারে। নেতারা দক্ষিণ চীন সাগরের স্থিতিশীলতা, নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দুই রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানান আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রধানরা। অপরাধ দমনে সহযোগিতা সম্মেলনে মালয়েশিয়া আন্তঃদেশীয় অপরাধ, মানবপাচার ও মাদক চোরাচালান রোধে যৌথ প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানায়।
পাশাপাশি, আঞ্চলিক শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তেংকু নাসরুল জানান, মালয়েশিয়া ২০২৬ সালের আসিয়ান চেয়ারম্যানশিপ গ্রহণের প্রস্তুতির জন্য ফিলিপাইনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
৪৭তম আসিয়ান সম্মেলন শুধু আঞ্চলিক রাজনীতি বা অর্থনীতির নয়, বরং শান্তি, সংহতি ও সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কুয়ালালামপুর ঘোষণার মাধ্যমে এ বছর আসিয়ান আবারও প্রমাণ করেছে— ‘একতা ও সংলাপই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শক্তির মূলভিত্তি।’
এমআরএম/জেআইএম