মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে শিক্ষা বৃত্তির সুযোগ
মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের প্রাক্কালে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নজমুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রতিনিধি দলটি ১২-১৫ জানুয়ারি ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা সম্মেলনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সফর করবে।
এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক স্টেট মিনিস্টার ফাতিমাথ মোহাম্মদ, যা সফরের প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম কৌশলগত স্তম্ভ হিসেবে শিক্ষা কূটনীতির ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি চিকিৎসা শিক্ষা, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি এবং সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সাতটি চিকিৎসা বৃত্তি দিয়ে থাকে। মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে শিক্ষা বৃত্তির সুযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশে স্বল্প ব্যয়ে মানসম্পন্ন ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থা, সরাসরি বিমান যোগাযোগ এবং মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টার ভ্রমণ সময় মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশকে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্যে পরিণত করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা একটি শক্তিশালী সফট পাওয়ার ও জনকূটনৈতিক হাতিয়ার, যা দীর্ঘমেয়াদে জনগণ-থেকে-জনগণের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
জবাবে স্টেট মিনিস্টার ফাতিমাথ মোহাম্মদ জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকপ্রাপ্ত বহু মালদ্বীপীয় চিকিৎসক বর্তমানে মালদ্বীপে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সুনামকে আরও জোরদার করেছে।
তিনি শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা আরও ব্যাপকভাবে প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রস্তাব দেন।
এছাড়া তিনি জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মালদ্বীপে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে হাইকমিশনার প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান এবং সফরকালে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন-যা শিক্ষা কূটনীতি, সফট পাওয়ার ও জনকূটনীতির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এমআরএম/এমএস