এস্তোনিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে করণীয়

প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৫০ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

এস্তোনিয়া উত্তর পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। রাজধানী তাল্লিন। দেশটি বাল্টিক সাগরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। এস্তোনিয়া বাল্টিক দেশগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম। লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া অপর দুইটি বাল্টিক রাষ্ট্র। এস্তোনিয়ার পশ্চিমে বাল্টিক সাগরের অপর প্রান্তে সুইডেন অবস্থিত। দক্ষিণে রয়েছে লাতভিয়া, পূর্বে রাশিয়া, এবং উত্তরে ফিনল্যান্ড।

এস্তোনিয়ার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। ইইউ ও সেনজেনভুক্ত এই দেশটি মানবাধিকার সূচকে সব চাইতে ওপরে। এ ছাড়াও এস্তোনিয়ার পরিচিত ডিজিটাল দেশ হিসেবে। এটি বিশ্বের সর্বপ্রথম রাষ্ট্র যারা তাদের সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয় অনলাইনে। দেশটির সবরকম গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সাইন করা হয় ডিজিটালি। এস্তোনিয়া পৃথিবীতে পরিচিত ‘ই-কান্ট্রি’ হিসেবে।

এস্তোনিয়া হতে পারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করার জন্য একটি আদর্শ দেশ। দেশটির সরকার তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুরোপুরি আন্তর্জাতিক করে তোলার চেষ্টা করছে। এজন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তারা স্বাগত জানাচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএচডি/ ডক্টরাল ও শর্টকোর্স করার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়াও রয়েছে স্কলারশিপের সুবিধা। অনার্স কোর্সের মেয়াদ তিন থেকে চার বছর, মাস্টার্স কোর্স এক থেকে দুই বছর এবং পিএইচডি তিন থেকে চার বছর মেয়াদি হয়ে থাকে।

এস্তোনিয়ায় মোট ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ১টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ৮টি স্টেইট প্রফেশনাল হাইয়ার এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন, ৫টি প্রাইভেট প্রফেশনাল হায়ার এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন।

এস্তোনিয়ার- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো-

ইউনিভার্সিটি অব তারতু (University of Tartu)

এস্তোনিয়ান বিজনেস স্কুল (Estonian Business School)

এস্তোনিয়ান একাডেমি অব আর্ট (Estonian Academy of Arts)

তাল্লিন ইউনিভার্সিটি (Tallin University)

এস্তোনিয়ান ইউনিভার্সিটি অব লাইফ সায়েন্স (Estonian university of Life Science)

যেসব বিষয় পড়ানো হয়-

ব্যাচেলর-

কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে ভেটেনেরানি মেডিসিন, মিউজিক, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ক্রিয়েটিভটি অ্যান্ড বিজনেস ইনোভেশন, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, গেম ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন, সোশ্যাল সায়েন্স, পলিটিক্স, ল, মেডিসিন ইত্যাদি।

মাস্টার্স-

কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যানিমেশন, ডিজাইন, ক্রাফট, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ইকোনমিক্স, কালচারাল ম্যানেজমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিলোসফি ইত্যাদি।

estonia2.jpg

পিএচডি-

ডক্টরাল কোর্সের মধ্যে রয়েছে- কেমিস্ট্রি, ডেমোগ্রাফি, ইকোলজি, হেলথ, হিস্টোরি, ইকোনমিক্সসহ নানা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে এস্তোনিয়ায়।

১. উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা

এস্তোনিয়ায় শিক্ষার মান উন্নত ও ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। দেশটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত বছরে ২ বার ভর্তির জন্য আবেদন করা যায়। অটাম ও স্প্রিং এ দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এস্তোনিয়ান ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে পড়ানো হয়। ১০০টির বেশি ইংরেজি কোর্স রয়েছে। পড়তে চাইলে বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই আপনাকে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।

২. পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ কম

ইংল্যান্ড, আমেরিকা কিংবা অন্যান্য পশ্চিম ইউরোপিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় এস্তোনিয়ার টিউশন ফি কম। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ে বাৎসরিক টিউশন ফি ১৬৬০ ইউরো হতে পারে। কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে টিউশন ফির তারতম্য হতে পারে। তবে মেডিকেল কোর্সের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি অন্যান্য কোর্সের তুলনায় বেশি।

এস্তোনিয়ায় কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কোর্সে ফ্রিতে পড়ারও সুযোগ রয়েছে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকে বা কোনো শিক্ষার্থীর একাডেমিক পারফরমেন্স ভালো থাকে অথবা এস্তোনিয়ান ভাষার কোনো কোর্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্রিতে পড়াশোনা করার সুযোগ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া থাকা খাওয়ার জন্যও দেশটি চমৎকার। স্বল্প খরচে খুব ভালোভাবে থাকা খাওয়ার সুযোগও রয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ নির্ভর করে আপনার জীবনযাপন কী রূপ হবে তার উপর। হিসেব করে চললে, মাসে ৩০০-৫০০ ইউরোর মধ্যে ভালোভাবে জীবনযাপন করা যায়। খাওয়া দাওয়ার জন্য আপনাকে মাসিক ২০০-২৫০ ইউরো খরচ হতে পারে।

৩. আবাসন সুবিধা

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব হোস্টেলে ভাড়া মাসিক ১০০ ইউরো থেকে শুরু হয়। এ ছাড়াও আপনি চাইলে আলাদা বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে বাসা ভাড়া কত হবে তা নির্ভর করবে, বাসাটি কোথায় অবস্থিত এবং বাসার আয়তনের উপর। বাসা ভাড়া ১০০ ইউরো থেকে শুরু করে ৪৫০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।

৪. কাজের সুযোগ

এস্তোনিয়াতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের খন্ডকালীন চাকরির জন্য কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। আপনি পড়াশোনা ঠিক রেখে যত সময় ইচ্ছা চাকরি করতে পারবেন। খন্ডকালীন চাকরির জন্য আপনাকে অবশ্যই এস্তোনিয়ান ভাষা জানতে হবে। পড়াশোনা শেষে আপনি ছয় মাসের জব সার্চ ভিসা পাবেন।

৫. স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

দেশটিতে পড়াশোনা করার আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে, পাঁচ বছর থাকার পর দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) জন্য আবেদন করা যায়। একটানা বৈধভাবে আট বছর থাকলে নাগরিকও হওয়া যায়। তবে তার জন্য আপানাকে এস্তোনিয়ান ভাষা, স্থায়ী চাকরিসহ আরও কিছু শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। ডু ম্যাগ

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]