লেবাননে অসহায় প্রবাসীদের পাশে বাংলাদেশ দূতাবাস

বাবু সাহা
বাবু সাহা বাবু সাহা
প্রকাশিত: ০৮:০০ এএম, ১২ এপ্রিল ২০২০

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশির বসবাস। দেশটিতে গত সাত মাসের চলমান অস্থিরতা ও ডলার সংকটের কবলে পড়ে চাকরি হারিয়েছে প্রায় হাজারো বাংলাদেশি। ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে গত এক মাসের লকডাউনে স্থবির হয়ে গেছে দেশটির জনজীবন। গৃহবন্দি অবস্থায় চরম দুশ্চিন্তা আর উৎকণ্ঠায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাংলাদেশিরা।

কর্মহারা এসব প্রবাসীদের হাতে নগদ অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকট ও বাসস্থান সমস্যায় ভুগছেন তারা।

এমন অবস্থায় প্রবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে লেবাননের বৈরুত দূতাবাস। করোনা পরিস্থিতির শিকার অসহায় বাংলাদেশিদের খাদ্যসহ মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেয়া কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এই উদ্যোগ।

Lebanon-(1)

শনিবার (১১ এপ্রিল) লেবাননের দক্ষিণে সাঈদা জেলাসহ পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে কর্মরত অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০০ প্রবাসীদের হাতে সহায়তা তুলে দেন বৈরুত দূতাবাসের শ্রম সচিব ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় তৃতীয় সচিব আব্দুল্লাহ আল সাফি ও দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় প্রবাসীদের কেউই খাদ্য সংকটে থাকবেন না এমন আশ্বাস দিয়ে শ্রম সচিব বলেন, ‘এই মুহূর্তে করোনা পরিস্থিতির শিকার একেবারে অভাবী প্রবাসীদের জন্য বৈরুত দূতাবাস তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ করছে। দূতাবাস পুরো লেবাননজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। এ নিয়ে কাউকে দুঃশ্চিন্তায় থাকতে হবে না। প্রয়োজন সরকার থেকে আরও বাজেট চাওয়া হবে।’

Lebanon-(2)

শ্রম সচিব জানান, বাংলাদেশি কমিউনিটির সহযোগিতায় আমরা যাচাই-বাছাই করে প্রায় দেড় হাজার অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের তালিকা প্রস্তুত করেছি এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে মানবিক সহায়তা দেয়া হবে।

দূতাবাসের পাশাপাশি অবস্থাসম্পন্ন লেবানন প্রবাসীদের এসব অসহায় প্রবাসীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম সচিব।

একইসঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লেবানন সরকারের বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এসআর/পিআর

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]