ফরিদগঞ্জের উন্নয়নে সুযোগ চান কাতার প্রবাসী সিআইপি জালাল

আনোয়ার হোসেন মামুন
আনোয়ার হোসেন মামুন আনোয়ার হোসেন মামুন , কাতার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৫:০৭ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ সম্ভাবনাময় দেশ কাতার। এটি পারস্য উপসাগরের ছোট ও মরুভূমির দেশ। মাথাপিছু আয়ে বর্তমানে পৃথিবীর সবচাইতে ধনীর কাতারে দেশটি। ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার। ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে এখানে ব্যাপক উৎসব বিরাজ করছে।

কাতারে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৪ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সুনামের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। কাতারের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম খাত হচ্ছে কনস্ট্রাকশন সেকশন।

কনস্ট্রাকশনে, মেশন, কারপেন্টার, স্টিল ফিক্সার, মার্বেল টাইলসসহ বিভিন্ন নির্মাণ শ্রমিকের পেশায় কাজ করেন বাংলাদেশিরা। কাতারে ব্যবসা-বাণিজ্য খাতেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও। দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবার নিয়ে বসবাসও করছেন।

Jalal-Ahamed2.jpg

বাংলাদেশিদের মধ্যে একমাত্র কাতারি নাগরিক জালাল আহমেদ সিআইপি। তিনি দীর্ঘদিন দেশটিতে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। তিনি কাতার থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সিআইপিও নির্বাচিত হয়েছেন।

কাতার প্রবাসী মো. জালাল আহমেদ সিআইপি, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা পৌর এলাকার মিয়াজি বাড়ির হাজী আব্দুর রশিদ মিয়াজির বড় ছেলে, তিনি কাতারে গোল্ডেন মার্বেল কোম্পানির কর্ণধার। জালাল আহমেদ ২ ভাই ৫ বোনের মধ্যে প্রথম।

তার এক বোন মাজেদা বেগম বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। জালাল আহমেদ তিন মেয়ে ও ছেলের জনক। বর্তমানে সবাই সপরিবারে কাতারে থাকেন।

কঠোর পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে কাতারে গড়ে তুলছেন গোল্ডেন মার্বেল কোম্পানি, গোল্ডেন মার্বেল কোম্পানি কাতারে মধ্যেই নাম্বার ওয়ান। নিজ জন্মস্থান চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার মানুষকেও কাতারে এনে স্বাবলম্বী করেছেন। পরিবারের অনেক সদস্য বর্তমানে কাতারে রয়েছেন তার।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিসর, নেপালসহ অনেক দেশের শ্রমিক জালাল আহমেদের গোল্ডেন মার্বেল কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন।

কাতারস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটিতেও অতিপরিচিত মুখ জালাল আহমেদ সিআইপি। সফল এই ব্যবসায়ী সামাজিক সংগঠন কাতার চাঁদপুর সমিতি ও ফরিদগঞ্জ সমিতি প্রধান উপদেষ্টা, কাতার আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা দায়িত্বে আছেন, তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

প্রায় ৩২ বছর ধরে কাতারে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে যাচ্ছেন এ জালাল আহমেদ। কাতারে তার মালিকানাধীন চারটি মার্বেল পাথরের কারখানা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের খুলনার মোংলায় তার একটি মার্বেল ফ্যাক্টরি রয়েছে।

জালাল আহমেদ, প্রতি বছর বাংলাদেশে গরিবদের ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে এতিম খানা, মসজিদ, মাদরাসা তৈরি করেছেন। অসহায় হত-দরিদ্র মানুষেরদের নিজস্ব অর্থায়নে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন।

Jalal-Ahamed2.jpg

এছাড়া দরিদ্র মানুষকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, করোনাকালে ফরিদগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে সহযোগিতা করেছেন। করোনার কারণে চাকরি হারানো কাতার প্রবাসীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন তিনি।

জালাল আহমেদ বলেন, কাতারে বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য বেশি করে পরিশ্রম করতে হবে, এখানে অর্থ অপচয়ের প্রচুর জায়গা রয়েছে, এসব জায়গায় থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে, কাজকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি।

তিনি বলেন, নিজের যোগ্যতা আর মেধা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, অর্থ উপার্জন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নিজের ভাগ্য নিজেকেই পরিবর্তন করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন শতভাগ চেষ্টা। কেউ আপনার ভাগ্য বদল করে দিতে পারবে না, সাময়িক কিছু সহযোগিতা পাবেন মানুষের কাছে।

এই সফল প্রবাসী বলেন, কাতারে বাংলাদেশিদের ছোট ছোট অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছেন। আমার কাছে যারা আসে আমি সবাইকে সবসময় উৎসাহ দেই। বলি আরো বড় হতে হবে, কাতারে পছুর পরিমাণ কাজ রয়েছে, কাজের জন্য সবসময় চেষ্টা থাকতে হবে।

তিনি বলেন, কাতারে চার লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্যের অনেক অভাব রয়েছে। একজনের ভালো আরেক জন পছন্দ করে না।

জালাল আহমেদ, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী, মনোনয়ন পেলে নিজের জন্মস্থান ফরিদগঞ্জের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করতে চান।

মানুষের ভালোবাসা আর অবহেলিত ফরিদগঞ্জবাসীর কথা চিন্তা করে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]