মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিকে অপহরণ: মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি মুক্তি

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মালয়েশিয়া
প্রকাশিত: ০৮:৩৮ এএম, ০৪ অক্টোবর ২০২২
অপহৃত সোহেল মিয়া || ফাইল ছবি

পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও মুক্তি মেলেনি এক বাংলাদেশির। ঘটনার ৯ দিন অতিবাহিত হলেও মিলছে না তার খোঁজ। গত ২৫ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের সোহেল মিয়াকে (৩৯), কুয়ালালামপুর তামিলজায়ার বাসার নিচ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে অপহরণকারীরা তুলে নিয়ে যায়।

ওই দিন রাত ২টার দিকে ‘০০৬০১৪৭২৩২৬২৪’ মালয়েশিয়া প্রান্ত থেকে, ‘০১৭১০৭৮৭৯৩৩’ নম্বরে সোহেলের বোন জামাইকে ফোন করে জানান অপহরণকারীরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। পাঁচ লাখ টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলবে। কে বা কারা অপহরণ করেছে কিছুই বলেনি। পরের দিন সকাল ১০টায় একই নম্বর থেকে আবারও ফোন করা হয়।

সোহেলের কাছ থেকে ফোন নিয়ে আরেক বাংলাদেশি, কুলপাটোয়া পোল্ট্রি ফিড, অ্যাকাউন্ট নং: ‘৭০১৭১০০১০১১৮৮’ জনতা ব্যাংক বরিশাল শাখার অ্যাকাউন্ট নম্বর দেয়। ঘটনাটি সোহেলের দুলাভাই বিল্লাল তার বোন ও সোহেলের মা ও চাচাকে জানান। ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাটাইল সামী টেলিকমের মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেওয়া জনতা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করে ওই দিনই ‘+৬০১৪২২৯১০৪৯’ (হোটসঅ্যাপ) নম্বরে ৫ লাখ টাকার মানি রিসিট পাঠানো হয়। এরপর থেকে নম্বরগুলোতে ফোন করলে বন্ধ দেখায়।

সোহেলের স্বজনদের ধারণা, ওই বাঙালি ব্যক্তিও অপহরণের সঙ্গে জড়িত। উপায়ন্তর না পেয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর সোহেলের বোন জামাই মো. বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে সোহেলের নিকটাত্মীয় বিল্লাল হেসেনের ভাতিজা মালয়েশিয়ায় থাকা হাশেম আহমেদ রোববার (২ অক্টোবর) রাত ১০টায় জহুর বারু সেলাতান থানায় (বালাই) অনুরূপ আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন।

হাশেম আহমদ কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকায় মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে একটি অভিযোগ দায়ের করতে, জহুর বারুর একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, মোস্তাফা হোসেইনকে দায়িত্ব দেন। সোহেল মিয়া (৩৯), পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। তিনি মালয়েশিয়ায় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন।

মালয়েশিয়া তামিলজায়া পাশের বিল্ডিংয়ে থাকেন সোহেলের এক মামা মিজান। তিনি জানান, ঘটনার দিন কাজ থেকে এসে দেশে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলার পরে রাত ৯টার দিকে বাসার নিচে যান। বাসার নিচ থেকেই অপহরণকারীরা তাকে তুলে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সোমবার (৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১১টায় জানতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাউন্সিলর (কন্স্যুলার) জি এম রাসেল রানার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মিনিস্টার (লেবার) নাজমুস সাদাত সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অপহরণ বিষয়ে তিনি অবগত নন বা লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

জহুর বারুর বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোস্তাফা হোসেইন জানান, এ ঘটনায় জহুরবারু সেলাতান বালাইয়ে (থানায়) ২ অক্টোবর সোহেলের নিকটাত্মীয় হাশেম আহমেদ অভিযোগ দায়েরের পর মালয়েশিয়া পুলিশ সোহেলকে উদ্ধার করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। আজ রাতের মধ্যেই অপহরণকারীরা আটক হবে বলে জানান মোস্তাফা হোসেইন।

এমআরএম/জেআইএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]