প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে মিশরে ঈদের আনন্দ

আফছার হোসাইন
আফছার হোসাইন আফছার হোসাইন কায়রো থেকে
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬
মিশরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ উদযাপন-ছবি জাগো নিউজ

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। মধ্যপ্রাচ্য ও আরব-আফ্রিকার অন্যান্য দেশের মতো ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ মিশরেও যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ফজরের নামাজ শেষে দেশজুড়ে মসজিদ থেকে ভেসে আসতে থাকে তাকবিরের ধ্বনি—‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ ঈদের এই পবিত্র সুরে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ, সৃষ্টি হয় এক অপার্থিব আবহ।

jagonews24

ভোরের আলো ফোটার আগেই নারী, পুরুষ ও শিশুরা নতুন পোশাকে জায়নামাজ হাতে ছুটে যান মসজিদ ও খোলা মাঠের দিকে। সূর্যোদয়ের প্রায় ২০ মিনিট পর রাজধানী কায়রোসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত ও খুতবা।

মিশরে ঈদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ঈদগাহ না থাকায় ছোট-বড় মসজিদের পাশাপাশি স্কুল প্রাঙ্গণ ও বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন করা হয় জামাত। এ দেশে ১২ তাকবীরের জামাত শেষে হাত তুলে মোনাজাত পড়া হয় না।

রাজধানীর ইসলামিক কায়রো এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত আল-আজহার মসজিদ, ইমাম হোসেন ও আমর ইবনুল আসসহ গুরুত্বপূর্ণ মসজিদগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও অংশ নেন ঈদের নামাজে।

jagonews24

দেশটির বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজ নিজ এলাকার মসজিদ ও খোলা মাঠে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। অন্যদিকে, বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি ছাত্র সংগঠন ইত্তিহাদসহ তার অঙ্গসংগঠনগুলো নিজস্ব উদ্যোগে আলাদাভাবে ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে নানা আয়োজনের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেও দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসীদের কোনো অনুষ্ঠান চোখে পড়ে না।

এবার ঈদ উপলক্ষে চারদিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক দুইদিন মিলিয়ে মোট ছয়দিনের ছুটি উপভোগ করছেন দেশটির জনগণ। এ উপলক্ষে বহু বন্দিকে সাধারণ ক্ষমাও ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি।

jagonews24

নীলনদের দেশ মিশরে ঈদুল ফিতরের বিশেষ মিষ্টান্ন হিসেবে জনপ্রিয় ‘কাহক’—খেজুর, বাদাম ও মাখন-ময়দার সংমিশ্রণে তৈরি এই কুকিজজাতীয় খাবার ছাড়া ঈদের আনন্দ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। এছাড়া ‘ফাসিখ’ (লবণাক্ত শুঁটকি মাছ), ‘বাছাল আখদার’ (পেঁয়াজ পাতা) এবং ‘আইশ বালাদি’ (দেশীয় রুটি) ঈদের খাবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলো নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করে পিঠা-পায়েস, মোরগ পোলাওসহ দেশীয় নানা পদ দিয়ে ঈদের আনন্দ উদযাপন ও অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকেন।

সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অপূর্ব সমন্বয়ে মিশরে উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদুল ফিতর—যা ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও আনন্দের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ধরা দিয়েছে।

এসএইচএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]