মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে ডিজিটাল উদ্যোগ
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত এই সিস্টেমটির নাম হতে পারে ‘ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্স প্ল্যাটফর্ম’ (টুরাপ)। যদিও এটি শ্রমবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশাবাদ তৈরি করেছে, তবুও সংশ্লিষ্ট মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ।
বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ব্যয়, জটিলতা এবং শ্রমিক কল্যাণসংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। নতুন প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য হলো এই সমস্যাগুলো কমিয়ে এনে একটি আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা তৈরি করা।
তবে সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের অনেকেই মনে করছেন, এটি বিদ্যমান ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে বরং আরও একটি অতিরিক্ত স্তর যোগ করতে পারে।
মালয়েশিয়ার ৭০০-র বেশি বেসরকারি নিয়োগ সংস্থার সংগঠন পাপা (পারসাতুয়ান আগেন্সি পেকারজান মালয়েশিয়া) এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
সংগঠনটির সহ-সভাপতি সুরেশ তান বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ একটি জটিল প্রক্রিয়া—যেখানে ডকুমেন্টেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা, প্রশিক্ষণসহ বহু ধাপ রয়েছে।
তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার ঝুঁকি কে নেবে? প্রাথমিক খরচ কে বহন করবে? শ্রমিক অযোগ্য হলে বা পালিয়ে গেলে ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
তার মতে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোর ভূমিকা কমিয়ে দিলে পুরো ব্যবস্থার দায়বদ্ধতা হ্রাস পেতে পারে। সুরেশ তান দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন আইএলও এবং আইওএম এর সুপারিশ সঠিকভাবে বোঝা হচ্ছে না।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এসব সংস্থা মূলত পর্যবেক্ষণ ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখে, সরাসরি নিয়োগ পরিচালনার জন্য নয়। শ্রমিকদের ওপর নিয়োগ ব্যয় চাপানো নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে ঋণ ও শোষণ কমানোর ওপর তারা গুরুত্ব দেয়।

মালয়েশিয়ায় ২০০৭ সাল থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে শ্রমিক নিয়োগ চালু ছিল। তবে সুরেশ তানের মতে, এই পদ্ধতি সফল হয়নি।
তার আশঙ্কা উৎস দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি বাদ পড়লে মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দায়বদ্ধতা কমে যেতে পারে। নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
তিনি বিকল্প হিসেবে একটি দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রস্তাব করেন, যা দুই দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোকে সংযুক্ত করবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, নতুন সিস্টেম চালু হলে একজন শ্রমিক নিয়োগে খরচ হতে পারে প্রায় ১ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৪ হাজার রিঙ্গিত)। এই খরচের মধ্যে থাকতে পারে, বিমান ভাড়া, প্রসেসিং ফি, এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ সার্ভিস চার্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই)। এজেন্টদের হিসাব অনুযায়ী, ন্যূনতম বেতন: ১৫০০ রিঙ্গিত, মোট প্রাথমিক খরচ (লেভি ও বীমা ছাড়া): প্রায় ৬ হাজার রিঙ্গিত।
এমআরএম