হাম শিশুদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? কীভাবে চিনবেন ও প্রতিরোধ করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৫৮ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রথমদিকে আক্রান্ত শিশুর সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং উচ্চ জ্বর দেখা যায়। পাশাপাশি গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ দেখা যেতে পারে। ছবি/জাগো নিউজ

ডা. মো. আতোয়ার রহমান

শিশুদের মধ্যে হঠাৎ জ্বর, চোখ লাল হওয়া কিংবা সারা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে এর পেছনে অন্যতম একটি কারণ হতে পারে হাম। একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা অবহেলা করলে জটিল আকার নিতে পারে।

হাম বা মিসেলস্ মূলত শিশুদের একটি ছোঁয়াচে রোগ। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। শরীরে ভাইরাস প্রবেশের পর সাধারণত ৬ থেকে ১৯ দিনের মধ্যে এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।

লক্ষণ

প্রথমদিকে আক্রান্ত শিশুর সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং উচ্চ জ্বর দেখা যায়। পাশাপাশি গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ দেখা যেতে পারে, যা হামের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

এরপর মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে গলা হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়ে। এই র‍্যাশ সাধারণত ৫-৬ দিন থাকে এবং পরে শুকাতে শুরু করে। এ সময় শরীরের লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে এবং ডায়রিয়াও হতে পারে।

হাম শিশুদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? কীভাবে চিনবেন ও প্রতিরোধ করবেন

হামের জটিলতা

হাম শুধু একটি সাধারণ রোগ নয়, এর জটিলতাও মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণজনিত নিউমোনিয়া, মধ্যকর্ণে প্রদাহ (ইনফেকশন) এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) পর্যন্ত হতে পারে, যা শিশুর জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষ করে অপুষ্ট শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে হাম আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই এই ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

এর চিকিৎসা কী

চিকিৎসার ক্ষেত্রে হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই আক্রান্ত শিশুকে পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল খাবার বেশি করে দিতে হয়। জ্বর হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, হামের সঙ্গে যদি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ যুক্ত হয়, তখন শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।

অনেক সময় দেখা যায়, হামে আক্রান্ত হলে কেউ কেউ শরীরে শুকনো পাট পাতা ভিজানো পানি বা দুধের মালাই লাগানোর মতো ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করেন - যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ ধরনের ভুল পদ্ধতি এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

হাম শিশুদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? কীভাবে চিনবেন ও প্রতিরোধ করবেন

প্রতিরোধ কীভাবে করবেন

হাম প্রতিরোধে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যেমন জরুরি, তেমনি সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। শিশুদের এমআর টিকা ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়, যা হামের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর সুরক্ষা দেয়।

সম্প্রতি হামের সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে, তাই এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। সময়মতো টিকা দিন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন এবং আপনার শিশুকে নিরাপদ রাখুন।

লেখক পরিচয়: ডা. মো. আতোয়ার রহমান
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এমডি (পালমোনোলজি)
বক্ষ ব্যাধি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ

এএমপি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।