মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ‘গ্যাং বোরহান’ ফের গ্রেফতার

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬
গ্রেফতার ‘গ্যাং বোরহান’

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূলহোতা ‘গ্যাং বোরহান’কে পুনরায় গ্রেফতার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। অভিযোগ রয়েছে, আগে গ্রেফতার হওয়ার পরও তিনি এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, ৯ এপ্রিল কেলান্তানের কোটা ভারু এলাকায় বিশেষ ট্যাকটিক্যাল দল, গোয়েন্দা ও বিশেষ অপারেশন বিভাগ এবং কেলান্তান রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, অভিযানের শুরুতে দুজন স্থানীয় পুরুষকে আটক করা হয়, যারা ‘রিসিভার’ হিসেবে কাজ করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালানো হয়, যা অবৈধ অভিবাসীদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

পরবর্তীতে ওই স্থান থেকেই চক্রটির মূল হোতা হিসেবে সন্দেহভাজন এক স্থানীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে ‘ট্রান্সপোর্টার’ বা পরিবহনকারী হিসেবে কাজ করা আরও দুইজন স্থানীয় ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে।

অভিযানে মোট ২২ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের ২ জন, বাংলাদেশের ৩ জন এবং মিয়ানমারের ৮ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। সব মিলিয়ে ১৩ থেকে ৪২ বছর বয়সী মোট ২৭ জনকে এই বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়েছে।

জাকারিয়া শাবান জানান, তদন্তে জানা গেছে চক্রটি কৌশল পরিবর্তন করে উপকূলীয় পথ ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসীদের দেশে প্রবেশ করাচ্ছিল। পরে তাদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হতো, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়।

তিনি আরও বলেন, এসব অভিবাসীকে পরে ‘ট্রান্সপোর্টার’-এর মাধ্যমে ক্লাং ভ্যালি এলাকায় পাঠানো হতো। প্রতিটি অভিবাসীর জন্য পরিবহনকারী পেত ১০০ রিঙ্গিত, আর ‘রিসিভার’ পেত ২৫০ রিঙ্গিত করে। অভিযানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতার পাঁচজন স্থানীয় পুরুষের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন (অপটিজম) ২০০৭-এর ২৬এ ধারায় তদন্ত চলছে। অন্যদিকে আটক ২২ জন বিদেশিকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৬(১)(সি) ধারায় আটক রাখা হয়েছে।

এমআইএইচএস/

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]