মালয়েশিয়ায় সেমিকন সাউথইস্ট এশিয়ায় ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:০৪ এএম, ০৬ মে ২০২৬
মালয়েশিয়ায় সেমিকন সাউথইস্ট এশিয়া আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান/ছবি-সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে শুরু হয়েছে সেমিকন সাউথইস্ট এশিয়া। মঙ্গলবার (৫ মে) মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহারি আব্দুল গনি।

বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর খাতের নীতিনির্ধারক, উৎপাদক, সরবরাহকারী, গবেষক, বিনিয়োগকারী ও উদীয়মান প্রযুক্তি প্রতিভাদের একত্রিত করেছে এই আয়োজন। ট্রান্সফর্ম টুমরো (ভবিষ্যৎকে বদলে দাও) প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত এবারের আসরে ২০ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (মাইডা) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল ইব্রাহিম শেখ আব্দুল মাজিদ এবং বিশ্বখ্যাত সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা। পাশাপাশি সেমির নেতৃত্বও এতে অংশ নেয়।

মাইডার প্রধান নির্বাহী ডাতুক শেখ শামসুল ইব্রাহিম বলেন, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। মালয়েশিয়া শুধু এই প্রবণতার সুবিধাভোগী নয়, বরং ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়।

তিনি জানান, নিউ ইন্ডাস্ট্রিয়াল মাস্টার প্ল্যান ২০৩০ (এনআইএমপি ২০৩০)-এর আওতায় দেশটি অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিং থেকে এগিয়ে ডিজাইন, উন্নত প্যাকেজিং এবং উদ্ভাবননির্ভর উৎপাদনে জোর দিচ্ছে।

তার ভাষায়, ২০২৫ সালে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স (ই অ্যান্ড ই) খাতে ২৮.৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত বিনিয়োগ নিশ্চিত হওয়া মালয়েশিয়ার প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রমাণ। এখন লক্ষ্য হচ্ছে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন, স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

সেমির প্রেসিডেন্ট ও সিইও অজিত মনোচা বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে নকশা, উৎপাদন, উপকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেমিকন সাউথইস্ট এশিয়া এই সমন্বয় সাধনের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্সের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে অঞ্চলভিত্তিক সহযোগিতা ও সক্ষমতা সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

তিনদিনের এই আয়োজনে উৎপাদন সম্প্রসারণ, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ সামিট, মাইডা স্ট্র্যাটেজিক সেমিকন্ডাক্টর ফোরাম, সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড এনার্জি সামিট, টেকজুমারস চ্যালেঞ্জ ও ট্যালেন্টকানেক্টসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মাইডা ও সেমির মধ্যে ১২ বছরের অংশীদারত্ব এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরও জোরদার হয়েছে। এই অংশীদারত্ব তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে ইকোসিস্টেম সমন্বয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

এবারের আয়োজনে বাংলাদেশও নিজেদের সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা তুলে ধরছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের আমন্ত্রণে মাইটেক-এর হল-৫, বুথ নম্বর ৩১৫৪-এ ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’-এ অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ)।

বিএসআইএ-এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করছে দেশের তিনটি শীর্ষ চিপ ডিজাইন প্রতিষ্ঠান—নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড, প্রাইমসিলিকন টেকনোলজি (বিডি) লিমিটেড এবং সিলিকোনোভা লিমিটেড।

বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে একটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি এবং ১০ হাজার চিপ প্রকৌশলী তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতি বছর ২০ হাজারের বেশি সিএসই ও ইইই স্নাতক, ৭০০-এর বেশি চিপ ডিজাইনার এবং তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয় বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবে তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিপ ডিজাইন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্ট খাতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা ভবিষ্যতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চলা এই আন্তর্জাতিক আয়োজনটি এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার অংশগ্রহণে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেমিকন সাউথইস্ট এশিয়া কেবল প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং ভবিষ্যৎ শিল্প কাঠামো গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]